মেঘদূত সাহিত্য পত্রিকা

বিশ্ব বঙ্গীয় সাহিত্য কলা আকাদেমি অধিভুক্ত পত্রিকা

শনি রবির সাহিত্য বাসরঃগল্প-চিত্রকর / সুপ্তা আঢ্য



চিত্রকর /সুপ্তা আঢ্য 
      
     রোজের সকালে খবরের কাগজটা এলে আজকাল আর কেউ ঝগড়াঝাঁটি করে না,যে যার সময় মতো কাগজটা পড়ে বাইরের চেয়ারে রেখে দেয় এ বাড়ির কর্ত্তা সন্ধ্যের সময় অফিস থেকে ফিরে কাগজটা হাতে নিয়ে সময় কাটাবেন বলে। চার ভাইবোন হঠাৎ করেই যেন বয়সের চেয়ে অনেকটা বড়ো হয়ে গেছে। আর এ গল্পের নায়িকা বাড়ির বড় মেয়ে তোড়া বাবাকে নিশ্চিন্ত করে অভিভাবকত্বের দায়িত্ব নিতে চাইলেও নিজের অপারগতায় আরও পরিণত হয়ে গেছে । বাড়ির কর্ত্তা সুরঞ্জন গুহ সামনের মাসে ষাটের কোটা পার করে অফিস থেকে রিটায়ারমেণ্ট নিয়ে সিনিয়র সিটিজেনের তালিকায় নাম লেখাবেন। ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় সুরঞ্জন বাবুর স্ত্রী নীলিমা দেবীর হাঁসফাঁস লাগে সবসময়। কাকেই বা বলবেন - - - তোড়াটাও খুব চেষ্টা করছে নিজের মতো করে কিছু টিউশন পড়িয়ে আর মাধ্যমিকের পর শেখা সেলাইয়ের কাজ করে কিছুটা সুরাহা করার।
     এ গল্প প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারের - - - তবু তোড়ার মতো মেয়েরা একটু আলাদা ভাবে ভেবে সমস্ত প্রতিকূলতা কাটানোর স্বপ্ন দেখে বাস্তবকে মেলাতে চেষ্টা করে স্বপ্নের সাথে।এতো নিত্য দিন বয়ে চলা একই ঘটনার রোজনামচা,তবু যে দিনের কথা বলছি----সেদিন তোড়ার ভাইবোনেরা স্কুল চলে যাওয়ার পর হাতের সেলাইগুলো শেষ করে দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর কাগজটা হাতে নিয়ে প্রতিদিনের মতো চাকরির বিজ্ঞাপনের পাতায় চোখ বোলাতে বোলাতে হঠাৎই চোখ আটকে গেল একটা খবরে "চিত্রশিল্পের জন্য মডেল প্রয়োজন।"

        চাকরির চেষ্টা করতে করতে তোড়া এটা বুঝে গেছে - - - রেফারেন্স বা পয়সা - - - এ দুটো না থাকলে চাকরি পাওয়া অসম্ভব। তাই মডেল হওয়ার বিজ্ঞাপন দেখে এক অজানা আশায় চোখদুটো চিকচিক করে উঠলেও এ ব্যাপারে কাউকে কিছু বলল না ও।আসলে ওদের মতো নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে মডেল হবে----তা সে নিত্য নতুন চোখ ধাঁধানো সাজ পোশাকে স্টেজ পারফরম্যান্স করেই হোক বা আর্টের জন্যই হোক----এটা কেউই মেনে নেবে না।ওর এতদিনের সংস্কারে বড় হয়ে ওঠা   মনটাও একটু কিন্তু কিন্তু করছিল;তবে সংসারটা সামলাতে আর কোনো উপায় চোখে পড়ছিল না তোড়ার। অবশ্য চাকরিটা না পাওয়া অব্দি এসব নিয়ে ভাবনাকে বেশীদূর এগোতে না দিয়ে কাগজটা হাতে নিয়ে দরজার পেছনে ঝোলানো দীর্ঘ ব্যবহারে রঙচটে যাওয়া ব্যাগে কাগজটা মুড়ে ঢুকিয়ে ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে রওনা হল নির্দিষ্ট ঠিকানায়। ঠিকানা মিলিয়ে বড়ো বাড়িটার সামনে গিয়ে বেল বাজাতেই একজন বয়স্ক মানুষ দরজা খুলে দরজার ওপার থেকে জানতে চাইল"কাকে চাই?"

     "এটা কি আর্টিস্ট তথাগত দেবের বাড়ি?"
     "হ্যাঁ - - - কিন্তু তেনাকে কিসের প্রয়োজন? উনি এখন ছবি আঁকছেন। আপনে বসুন----ওনাকে খপর দিচ্ছি।"
      এতবড়ো ড্রয়িংরুমের সুদৃশ্য সোফায় বড়ো বেমানান লাগছিল নিজেকে তোড়ার।একটু জড়োসড়ো হয়ে সোফার এককোণে মুখ নামিয়ে বসে রইল ও।
     " কি চাই তোমার? "
মুখ তুলে ও কিছু বলার আগেই উনি বললেন" বাঃ দারুণ - - - কোনো কথাই হবে না। এতদিন ধরে আমি তো এটাই খুঁজছি! "
     তোড়া ভয়ে আমতা আমতা করে বলল"কিন্তু আমি তো - - - মানে---"
      "আঃ বড্ড বাজে কথা বলো----এসো আমার সাথে।"
      ভয়ে ভয়ে ওনাকে অনুসরণ করে একটা বিশাল হলঘরে পৌঁছে দেখল চারিদিকে বিভিন্ন ছবি----প্রকৃতি আর নারী প্রায় প্রত্যেক ছবিতে মিলেমিশে গেছে। অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল ও।
       "ওইখানে বোসো - - - আর চুপ করে বসবে, নড়বে না একটুও। "
      ভয়ে ভয়ে ওনার দেখানো চেয়ারে বসতেই তোড়ার ব্যাগ সরিয়ে রেখে----বুকের ওড়নাটা এক সুন্দর ভঙ্গীমায় ওর হাতে ধরিয়ে ক্যানভাসে আঁচড় কাটতে শুরু করলেন তথাগত। বাধ্য মেয়ের মতো একটুও না নড়ে প্রায় তিনঘণ্টা পোজ দেওয়ার পর উনি বলে উঠলেন" ওকে ডান্---তুমি নর্ম্যাল হয়ে বোসো।"
    এরপর ছবিটা দেখে বলে উঠলেন "জাস্ট ওয়াণ্ডারফুল! এসো - - - দেখো---তোমার তুমিকে কেমন দেখাচ্ছে।"

    ধীর পায়ে ক্যানভাসের সামনে এসে তোড়া যা দেখল তাতে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল ওর "কি দেখছ? তুমি এর থেকেও সুন্দর। ঈশ্বর তোমাকে আপন মনের কল্পনায় নিজের হাতে অতি যত্নে সৃষ্টি করেছেন। তোমার মতো মডেল পেলে আমার রঙ তুলি ধন্য হয়ে যাবে---আমার সাধন পথে সাফল্য আসবেই।"

     তোড়া কী বলবে ভেবে না পেয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে ভাবল "আমি তো মডেল হতেই এসেছি - - - বলব সেকথা! "একটু চুপ থেকে দ্বিধান্বিত ভাবে তোড়া বলল " একটা কথা বলব? "

   " হ্যাঁ বলো---ওওও---তুমি তো কিছু বলতেই এসেছিলে! প্লিজ বলো---আজ আমি ভীষণ স্যাটিসফায়েড ছবি এঁকে - - - বলো কী বলবে।"
    "আপনার মডেলের বিজ্ঞাপন দেখেই এসেছি এখানে।এখন যদি আমাকে এই কাজটা দেন - - - - তাহলে আমার খুব উপকার হয়।"
    তথাগত ঘর কাঁপিয়ে হেসে বলল" ও বাবা---তাহলে তো হয়েই গেল! তুমি ইন্টারভিউ পাশ করে গেছ। তাহলে আমি যেদিন বলব - - - - সেদিন এসো - - - আর প্রতি সিটিং-এর জন্য পাঁচ হাজার টাকা। কি খুশী তো? "
     " রোজ আসতে হবে না আমাকে? "
    " রোজ---রোজ---উঁ---ঠিক আছে - - - - তাই এসো ।কিন্তু সেক্ষেত্রে তোমাকে মাসে মাইনে নিতে হবে। উঁউঁউঁ----মান্থলি দশ হাজার টাকা। কি ঠিক আছে তো? "
     " হ্যাঁ স্যার - - - - খুব উপকার হল আমার! " ওনার দেওয়া পারিশ্রমিকে তোড়ার কি উপকার হল সেটা জানার বিন্দুমাত্র কৌতুহল না দেখিয়ে পেশাদারি ভঙ্গীমায় বললেন "শোন, কিছু কথা তোমার সাথে শুরুতেই বলে নেওয়া ভাল---"
    " কি কথা স্যার? "
    " দেখ এখানে কাজ করে কিন্তু অন্য কোথাও যেতে পারবে না। আর একটা কথা - - আমি যেমন চাইব তেমন ভাবেই পোজ দিতে হবে। কথার অন্যথা কাজের ব্যাপারে পছন্দ করি না আমি। "
    " না না স্যার, আপনি যা বলবেন তাই হবে। "
   নতুন চাকরিতে জয়েন করে বেশ আনন্দের সাথে বাড়ির পথ ধরলেও একটা ব্যাপারে বেশ দ্বিধাগ্রস্ত ছিল তোড়া" বাড়িতে কোন চাকরির কথা বলবে ও?"
  বাড়িতে ঢোকার আগে চওড়া গলিটার মুখের বড়ো তিনতলা বাড়ির বারান্দায় রোজকার মতোই আজও দাঁড়িয়ে ছিল ছেলেটা। রোজ দুবেলা বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় চোখাচোখি হয় ওর সাথে। আর এটাই তোড়ার নিস্তরঙ্গ জীবনে একটুখানি ঢেউয়ের আনাগোনার সরু একফালি পথ। আজ ছেলেটাকে দেখে আরও মনটা ভালো হয়ে গেল তোড়ার আর একঝলক কৃপা দৃষ্টিতে ওকে ধন্য করে তাড়াতাড়ি বাড়ির দিকে এগোলো ও। 
   "মা----মা---"
   "কীরে, কোথায় গেছিলি? দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চলল যে---কোনো হুঁশ নেই তোর? রাস্তাঘাটে কত বিপদআপদ ওৎ পেতে থাকে তা জানিস না?" 
   "এই শেষদুপুরে আমার কিছু হবেনা মা। ভেতরে চলো, খুব খিদে পেয়েছে তো?" 
   "কোথায় গিয়েছিলি বলবিনা আমাকে!" 
   "একটা দরকারে গেছিলাম। বাবা এলে একবারেই বলব।অনেকটা পথ হেঁটেছি - - - খুব টায়ার্ড লাগছে। একটু বিশ্রাম নিয়ে সেলাইগুলো আজ রাতের মধ্যেই শেষ করে ফেলতে হবে জানো! "
   ক্লান্ত তোড়ার মুখের দিকে তাকিয়ে আর কিছু জিজ্ঞেস করতে মন চাইল না নীলিমা দেবীর ।তবে এটুকু জানেন, মেয়ে কোনো কথা লুকোবে না বাবা মায়ের কাছ থেকে। 
   শেষ দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর মিনিট দশেক বিছানায় একবার শরীরটা এলিয়ে দিতেই আজ পাওয়া টাকাটার কথা মন পড়ে গেল তোড়ার।তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে উঠৈ একবার বাইরেটা দেখে নিয়ে ব্যাগ থেকে টাকার গোছাটা বের করে টাকাগুলোর গায়ে পরম যত্নে হাত বুলিয়ে---গন্ধ শুঁকে আর বুকের কাছে চেপে এক অদ্ভুত স্পর্শসুখ অনুভব করছিল ও। কতক্ষণ এভাবে ছিল খেয়াল ছিল না ওর। বেশ কিছুক্ষণ পর বাইরে একটা বাইক পাড়া কাঁপিয়ে মালিকের অস্তিত্ব জানিয়ে যাওয়ার সময় ওরও চমকটা ভেঙে দিয়ে গেল। টাকাটা যথাস্থানে রেখে সেলাইগুলো নিয়ে বসলো তোড়া।বাইরে স্কুল ফেরত তিন ভাইবোন কিংশুক, ছন্দা আর পলাশের গলার আওয়াজ পেলেও সেলাই মেশিনের আওয়াজে ওদের কথা কানে আসছিল না বলে আর মন দেয়নি ওদিকে। হাতের কাজগুলো সারতে সারতে কখন যে সন্ধ্যে নেমে এসেছে খেয়াল করেনি তোড়া, খেয়াল হলো যখন মা ঠাকুরঘরে সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালিয়ে শাঁখ বাজাচ্ছে। বাইরের দরজায় বাবার গলার আওয়াজ পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তোড়া বলল"বাবা, তোমাদের সাথে একটা কথা ছিল। তাড়াতাড়ি ঘরে এসো।" 
   "কী হয়েছে রে দিদি? সবাইকে ডাকলি যে?" 
   "বল্ না দিদি, তাড়াতাড়ি বল্। আর দেরী সইছে না রে।" কিংশুকের কথায় সবাই একমত হলেও সুরঞ্জন বাবু আর নীলিমা দেবীর মুখ থেকে দুশ্চিন্তার ছাপটা কিছুতেই যাচ্ছিল না। 
   " বাবা--আমি একটা চাকরী পেয়েছি। মাইনে দশহাজার টাকা।আর এটা রাখ বাবা---অ্যাডভান্স মাইনের টাকা।" তোড়ার কথা শেষ হতে তিনভাইবোন হাততালি দিয়ে আনন্দে চিৎকার করে উঠতেই সুরঞ্জন বাবু ওদের থামিয়ে দিয়ে বললেন "কিসের চাকরী তোড়া? কোন অফিস?" 
    "বাবা----কোনো অফিসে নয় - - - - বিখ্যাত আর্টিস্ট তথাগত দেবের অ্যাসিস্ট্যান্টের চাকরি। "
   " কিন্তু মা---এরকম একটা চাকরি কী তোর পোষাবে?ওনারা বড় মানুষ---পারবি তো!" 
   "বাবা---এখন যা অবস্থা, তাতে এটাও অনেকটা। তুমি না কোরো না বাবা, প্লিজ। কটা টিউশন আর সেলাইয়ে কি হয় বলতো? "
   সুরঞ্জনবাবু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন" যা ভালো হয় তাই কর মা। আমি তোদের অপদার্থ বাবা----কিছুই করতে পারলাম না তোদের জন্য।" বলতে বলতে চোখের কোলে আসা জলটা মুছে মেয়ের মাথায় আশীর্বাদের হাত বুলিয়ে বেরিয়ে গেলেন;আর নীলিমা দেবী টাকাটা ঠাকুরের চরণে ছুঁইয়ে কিংশুককে মিষ্টি আনতে পাঠালেন। 
     পরদিন সকাল দশটা বাজতে তোড়া যখন বাড়ি থেকে বেরোলো, তখন প্রতিদিনের মতোই তিনতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল ছেলেটা। রোজ দেখলেও--- ওর চোখের প্রত্যেকটা ভাষার আকুতি বুঝলেও নামটা জানা হয়নি কখনও। আসলে তোড়া জানে, ওই বড়ো বাড়ির ছেলেটার সাথে ওদের কোনদিনই মিলবে না। তাই ওই দু বেলা দেখা আর চোখের দৃষ্টি মেলানো ছাড়া একপাও এগোয়নি ও। অবশ্য ছেলেটাও শুধু দেখেই শান্তি পেত বোধহয়। যাইহোক আজ নতুন চাকরিতে যাচ্ছে - - - তাই সেটা জানাতে না পারলেও বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল ওর দিকে। ওর তাকানো দেখে তোড়া ভাবল"ও কী কিছু আন্দাজ করতে  পেরেছে? যাকগে,এখানে বেশিক্ষণ দাঁড়ালে ওদিকে আবার দেরি হয়ে যাবে" এসব ভাবতে ভাবতে সামনে বাসস্টপের দিকে পা বাড়ালো ও। 
     প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ 'মাধবীলতা' নামের বাড়িটায় পৌঁছে বেল বাজাতে আজও বৃদ্ধ মানুষটি দরজা খুলে বলল"দাদা তোমার জন্যে আঁকার ঘরে অপেক্ষা করছে। "
   ও মাথা নাড়িয়ে ভিতরের ঘরে ঢুকলে ওকে দেখে তথাগত বলে উঠল "যাক্, তুমি এসেছ তাহলে?" 
     "একথা কেন বলছেন স্যার?" 
    "আসলে স্বেচ্ছায় শিল্পীর শিল্পের কারণে অনেকেই মডেল হতে চায়না। সেখানে তোমার মতো সুন্দরী নিজে থেকে এগিয়ে এসেছ - - - এটা অবাক হওয়ার কারণ তো বটেই।" 
    "আসলে আমার এটাই নিয়তি স্যার!মাঝারি শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কোনও চাকরি জোগাড় করতে পারবনা এটা বুঝতে পেরেছি - - - তাই ঈশ্বরের দেওয়া সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়েই নাহয় নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারলাম - - - এটাই শান্তি স্যার। "
   " ঠিক আছে - - - এসব নিয়ে ভেবো না। এই নাও এই ড্রেসটা ধরো, চেঞ্জ করে নাও। আজ এটা পড়ে পোজ দেবে আমার ক্যানভাসের জন্য।"
    এরপর থেকে নতুন নতুন পোশাকে নতুন নতুন রূপে তোড়া ধরা দিচ্ছিল শিল্পীর সামনে আর বিমুগ্ধ তথাগত ক্যানভাসে একের পর এক তুলির আঁচড়ে নতুন সৃষ্টির আনন্দ উপভোগ করছিলেন ।শিল্পীর তুলিতে তোড়ার সৌন্দর্য নতুন নতুন রূপে ধরা দিচ্ছিল। 
     এই নতুন চাকরিতে তোড়া বেশ খুশী। আর ওর কাজের প্রতি ডেডিকেশন দেখে তথাগতও মাঝে মধ্যে ওকে পুরস্কৃত করতে দ্বিধা করেন না। তবে তোড়া একটা ব্যাপারে বেশ খুশি---- মানুষটা কাজের বাইরে আর কিচ্ছু বোঝে না। না হলে একলা ঘরে অল্পবয়সি তোড়াকে পেয়ে মালিকানার হিসেব বুঝে নিতে দ্বিধা করতেন না উনি। কিন্তু না, কাজের বাইরে একটা কথাও বলেন না কখনও। বেশ কয়েক মাস হয়ে গেলেও ওনার পরিবার সম্পর্কে কিছুই জানে না ও----আর তোড়ার ব্যাপারেও বাড়তি উৎসাহ দেখাননি তথাগত । ওনার কাজ শেষ হয়ে গেলে তোড়া নিজেই সবকিছু গুছিয়ে রাখে। মুখে কিছু না বললেও এতে যে উনি সন্তুষ্ট সেটা বোঝে তোড়া। এই তো কদিন আগেই বলেছিলেন "তুমি আমার অভ্যেসগুলো বদলে দিচ্ছ তোড়া? এই যে গুছিয়ে বসার অভ্যেস কোনোকালেই ছিল না আমার। আমার মতো অগোছালোকে কিছুটা হলেও নিতাইদার মনের মতো করতে পেরেছ।" নিজের কথায় তোড়াকে লজ্জা পেতে দেখে ঘর কাঁপিয়ে গমগমে গলায় হেসে উঠেছিল ওর স্যার। 
    ওদিকে তোড়ার এই চাকরিতে ওর বাবা মা প্রথমে খুশী না হলেও সংসারে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য আসায় এখন আর এটা নিয়ে মনখারাপ করেন না ওনারা। আর বড়ো বাড়ির ওই ছেলেটা--- যার নাম এখনো অব্দি জানেনা তোড়া ----নিয়ম করে দাঁড়িয়ে থাকে ওর জন্য। আগের মতো অতটা না হলেও ছেলেটাকে না দেখলে ভালো লাগে না ওর। চাকরি পাওয়ার পর এখন নিজেকে আরও সুন্দর করে রাখায় রাস্তাঘাটে অনেক চোখ ছুঁয়ে গেলেও ওই বড়োবাড়ির ছেলেটার দৃষ্টি বড়ো অদ্ভুত - - - কী আছে ওই দৃষ্টিতে নিজেও জানে না তোড়া। আজকাল ছেলেটার চোখে চোখ পড়লে তাকাতে গেলেই বুকটা কেঁপে ওঠে---নামিয়ে নেয় চোখটা ও।বড়ো ভয় করে এক অজানা ভবিষ্যতের! তবে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ও কিন্তু পলকহীন চোখে তাকিয়ে থাকে তোড়ার দিকে যতক্ষণ তোড়ার ছায়া ঘেরা অবছায়াটা অদৃশ্য হতে হতে মিলিয়ে না যায়। 
     এভাবেই দিনগুলো বেশ কাটছিল তোড়ার। হঠাৎ একদিন 'মাধবীলতা' য় পৌঁছতেই তথাগত বলল"ওওও---- এসে গেছ, তাড়াতাড়ি চলো---- অনেকটা কাজ বাকী আছে।" ওরা নির্দিষ্ট ঘরে পৌঁছতেই আজ উনি নিজের হাতে তোড়াকে ছবির প্রয়োজনে যখন সুতোহীন শরীরে এক অনন্য ভঙ্গীমায় দাঁড় করালেন - - - - একটুও অবাক হয় নি ও---সবটাই যেন ওর আগে থেকে জানা ছিল। বরং পজিশন ঠিক করতে গিয়ে বিরক্ত তথাগতর হাত যখন তোড়ার শরীর ছুঁয়ে যাচ্ছিল----এক অদ্ভুত শিহরণ ঢেউ তুলছিল ওর শরীরে-মনে। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার কোনো হুঁশই ছিল না। উনি তখন নিজের মনে তোড়ার সুন্দর বিভঙ্গ দেখে নারী শরীরের প্রত্যেকটা ভাঁজের অপার্থিব সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলছিলেন ক্যানভাসে। আর অপূর্ব বিভঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাবরণ তোড়া ওনার স্পর্শে শিহরিত হতে হতে অনেক কষ্টে নিজেকে সংবরণ করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল স্থানুবৎ। ছবি আঁকা শেষ হতেই স্থান, কাল সব ভুলে সুতোহীন তোড়াকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলেন "অসাধারণ তোড়া - - - - জাস্ট ফ্যাবুলাস----তুমি না থাকলে এত সুন্দর ছবি আমি আঁকতেই পারতাম না। ঈশ্বর তোমাকে অজন্তার আদলে এই জন্যই নিজের হাতে তৈরী করেছেন। আর জানো তোড়া, আমি খুব ভাগ্যবান তোমার মতো মডেল পেয়ে।" এরপর তোড়ার হাত ধরে ছবিটার সামনে নিয়ে এসে বললেন "দেখো - - - - আজ আরেকবার তোমার তুমিকে দেখো।তোমার মুখের আদল বদলালেও তোমার চোখ আর ঠোঁট একই রেখেছি।ওগুলো আমার ছবি আঁকার রসদ তোড়া।"এতক্ষণ এত কথা বললেও তথাগতর কোনো হুঁশই ছিল না তোড়ার পোশাকের ব্যাপারে। 

    আর সুতোবিহীন এক ভঙ্গীমায় দাঁড়িয়ে থাকা তোড়া এখন তথাগতর শরীরি সংস্পর্শে এসে এক অদ্ভুত অস্থিরতায় ছটফট করছিল ।বেশ কিছুক্ষণ পর হঠাৎ হুঁশ ফিরতে তথাগত বলে উঠল" স্যরি তোড়া, তোমার তো দেরী হয়ে যাচ্ছে। যাও রেডি হয়ে নাও" এতটা অনুভূতিহীন মানুষ আগে কখনও দেখেনি তোড়া। অথচ এই বাড়িতে থাকতে থাকতে কখন যে এই কঠিন মানুষটাকে ভালোবেসে ফেলেছে বোঝেইনি তোড়া। কোনো কথা না বলে চুপচাপ পাশের ঘরে গিয়ে রেডি হয়ে বাড়ি চলে যায় ও। 
      বিভিন্ন ভঙ্গীতে আঁকা অচেনা তোড়ার ছবি খুব তাড়াতাড়ি খ্যাতির শিখরে পৌঁছে দিল শিল্পী তথাগত দেবকে। বিভিন্ন এক্সিবিশনের সুবাদে বিখ্যাত তথাগত এখন একটা আর্ট কলেজের প্রফেসর। তোড়া ওনার সাফল্যকে ভাগ করে নিতে চাইলেও সে অধিকার তোড়াকে উনি কখনই দেননি, অবশ্য একেবারে নিরাশও করেননি----অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছেন ওর পারিশ্রমিকের অঙ্ক। তোড়ার অবশ্য পাওনার ঝোলাটা একেবারে খালি হয়নি - - - - ওনার দেওয়া পারিশ্রমিকে এখন অভাব মিটেছে, সম্মানের সাথে বাঁচতে শিখেছে মানুষগুলো। আর তোড়া প্রতিদিন মানুষটাকে দেখছে - - - ওনার সান্নিধ্যে সারাদিন কাটানোর সুযোগ পাচ্ছে আর বারবার ওনার ছোঁয়ায় শিহরিত হচ্ছে ওর শরীর-মন। এখন ওই ছেলেটাকে দেখলে অনুকম্পা ছাড়া আর কিছুই হয় না তোড়ার - - - - - - - আর ওই ছেলেটাও এক অদ্ভুত ভাবলেশহীন চোখে তাকিয়েই থাকে তোড়ার দিকে। তোড়া ঠিক করল, "একদিন ডেকে কথা বলে জানব ও কী চায়? কথা না বলে চুপচাপ কি দেখে এভাবে?" পরক্ষণেই তোড়ার পুরোনো সত্ত্বা জানিয়ে দিল ওর সামাজিক মর্যাদার কথা। একটা দীর্ঘশ্বাস নিজের মধ্যে চেপে রেখে নিজেকে আরও ডুবিয়ে দিল কাজে। 

      সামনেই একটা ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশনের ডেট থাকায় গত কয়েকদিন যাবৎ খুব ব্যস্ত তথাগত। কাজ শেষ হয়ে বাড়ি পৌঁছতে ওর দেরীর খবর জানিয়ে আগাম তোড়ার মায়ের কাছে পারমিশন নিয়ে রেখেছে তথাগত আর দেরী হওয়ায় তথাগতর গাড়ি বাড়িতে পৌঁছে দেয় তোড়াকে। বিভিন্ন ভঙ্গীতে দাঁড়ানো তোড়ার শরীরী বিভঙ্গকে চোখের তারায় ফুটিয়ে তুলছে তথাগত আর সেই ভঙ্গীমার দৃষ্টিতে প্রায় পলকহীন চোখে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে তোড়াকে। নাওয়া-খাওয়ার সময়ই নেই মানুষটার - - - - আকাশটাকে যে ছুঁতেই হবে ওনাকে। 

    একদিন যখন তথাগত স্বচ্ছ পোশাকের আড়ালে বিস্মিতা নারীর ছবি ফুটিয়ে তুলছিল ক্যানভাসে তখন নিতাইদা বাইরে থেকে জানতে চাইল"তোমার ছাত্র এসেছে - - - পাঠাবো?" 

   ছবিতে মগ্ন তথাগত কোনও কিছু না ভেবেই "হুঁ" বলার মিনিট পাঁচেকের মধ্যে যে এসে দাঁড়ালো - - - - তাকে দেখে নিজের অবস্থার কথা ভেবে লজ্জিত না হয়ে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল ও। আর উল্টোদিক থেকে ক্যানভাসের সামনে বসে থাকা আত্মপাগল মানুষটা বলে উঠল"এক্সেলেণ্ট তোড়া - - - - - এই এক্সপ্রেশনটাই চাইছিলাম এতক্ষণ ।"

    আর দরজার কাছে দাঁড়ানো ছেলেটা বোবায় পাওয়া মানুষের মতো বেরিয়ে গেলেও সেদিকে কোনো হুঁশই ছিল না তথাগতর। আর তোড়া কিছু বলতে গিয়েও কথাটা গিলে নিয়ে একইরকম বিস্ফারিত চোখের ভঙ্গীতে দাঁড়িয়ে রইল। 
   পরেরদিনের এক্সিবিশনের জন্য এটাই শেষ কাজ হওয়ায় একটু তাড়াতাড়িই বাড়ি ফিরছিল তোড়া ।হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিল "আজ একবার ওই ছেলেটাকে ডেকে কথা বলতে হবে। আমার পরিস্থিতিটা শুনলে নিশ্চয়ই আর খারাপ ভাববে না আমাকে।" এসব ভেবে নিজেকে ওর মুখোমুখি দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত করতে করতে কখন যে বড়ো বাড়িটার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে খেয়ালই করে নি ও।অনেক লোকের চিৎকারে চমক ভাঙতেই দেখল বাড়িটার সামনে বহু মানুষের ভিড়। বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল তোড়ার। পায়ে পায়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতেই শুনল "আহারে! বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে!" বুকে পাথর চেপে রেখে আরও কিছুক্ষণ দাঁড়াতেই ও জানতে পারল---বড়ো বাড়ির একমাত্র ছেলেটা হাতের শিরা কেটে শেষ করতে চেয়েছিল নিজের জীবনটা;এখন হাসপাতালে ওর জীবনটা জীবন-মৃত্যুর সরু সুতোয় দুলছে।
    এই খবরটা সহ্য করতে পারল না তোড়া। কোনওরকমে বাড়ি ফিরে এসে বাথরুমে নিজের মুখোমুখি হতেই চোখের জল আর বাঁধ মানল না ওর। ঠিক সেইসময় দরজায় ধাক্কা দিয়ে মা বলে উঠল "তোড়া, তোর স্যার ফোন করেছেন।" 
    কোনওরকমে চোখের জল মুছে ভিজে শরীরে বেরিয়ে এসে ফোনটা ধরে "হ্যালো" বলতেই শুনতে পেল"কনগ্রাচুলেশনস্ তোড়া - - - তুমি চলে যাওয়ার পর আজকের ছবিটা দিল্লীতে একটা অন্ লাইন কম্পিটিশনে পাঠিয়ছিলাম আর এই ছবিটা ফার্স্ট প্রাইজ পেয়েছে -----যার পুরস্কার মূল্য পাঁচ লক্ষ টাকা।তোড়া তুমি লাইনে আছ তো!" তোড়ার চোখের জল তখন গাল বেয়ে নেমে ভিজিয়ে দিচ্ছিল ওর লুকোনো কান্নার সাক্ষী ফোনটাকে।কান্নায় জমে আসা গলা কোনোরকমে স্বাভাবিক অবস্থায় এনে অতি কষ্টে বলল"হ---হ্যাঁ স্যার শুনছি।"
   "ওকে----ভেরি গুড।শোনো তোড়া----আরও একটা খবর আছে।" এক অজানা আশঙ্কায় তোড়ার বুকটা কেঁপে কেঁপে উঠছিল।ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল"কি খবর স্যার? " ওর গলায় আশঙ্কার ছোঁয়া ছুঁয়েও গেল না মানুষটাকে----বরং আগের মতো একরাশ উচ্ছাস গলায় মিশিয়ে বললেন "খবরটা হয়ত তোমাকে পরেই দিতাম। কিন্তু,আর তো অপেক্ষা করা যাবে না।শোনো----তুমি বেরিয়ে যাওয়ার পর পরই আমার প্রিয় ছাত্র অনিমেষ----চিনতে পারছ!"
    "কোন অনিমেষ স্যার? আমি চিনতে পারছি না---"
       "ও হো!নামে চিনবে কেমন করে!ছবিটা আঁকা কালীন যে ছেলেটি এসেছিল----ও তো ভীষণ কাছের স্টুডেন্ট আমার! সে যাই হোক,ও ফোন করে এই ছবিটা চেয়েছে আমার কাছে----আর বলেছে সবচেয়ে বেশি মূল্য ও দেবে এটার জন্য। আই মিন---আমি যা চাইব!আর আমি অনিমেষকে এতবড় আনন্দের খবরটা জানাতে ফোন করেছিলাম জানো!ওর বাবা বললেন,ও একটু অসুস্থ----কিন্তু ছবিটা যখন ও কিনবে বলেছে তখন যা পুরস্কার মূল্য তার থেকে আরও দু লক্ষ টাকা বেশীই দেবেন উনি।ভাবতে পারছ তোড়া----জাস্ট ভাবো একবার। ইম্যাজিন----তোড়া----ইম্যাজিন! "

     তোড়া আর কিছুই ভাবতে পারছিল না।এই অনুভূতিহীন মানুষটার প্রতি এক অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল ওর----ভালোবাসা--- বিস্ময়--- ঘৃণা সব মিলেমিশে এক হয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎই একটা অন্যরকম গলায় জিজ্ঞেস করল"ওর কী হয়েছে আপনি জানতে চাননি স্যার! "

    তথাগত এক ভাবলেশহীন কণ্ঠে বলল"না----ওটা তো জিজ্ঞেস করিনি। ঠিক আছে----এটা কোন ম্যাটার না----যেদিন ও ছবিটা নিতে আসবে সেদিনই না হয় জেনে নেব।" নতুন করে আর অবাক হল না ও।শুধু এক ব্যঙ্গ-বিষণ্ণ গলায় বলল"ও যদি আর না আসে স্যার! "

    "আরে না না তা কেন----ওর বাবা কনফার্ম করেছেন। আর যদি ও না নেয়----তাহলেও কোনো প্রবলেম নেই। আমার ছবি কেনার মানুষের অভাব হবে না---এটা জেনে রেখো। এসব বাদ দাও।আসল কথাটা শোনো - - এই সাফল্যের অনেকটা পাওনা কিন্তু তোমারও।তাই পরের মান্থ থেকে তোমার স্যালারি পুরো পঞ্চাশ হাজার।" আজ তোড়ার কাছে লক্ষ টাকার মূল্যও মূল্য হীন।নিষ্পৃহ গলায় বলল"ওই টাকাটার আমার কোনো প্রয়োজন নেই স্যার। কাল থেকে চাকরিটা আমি আর করছি না। আমার তো চাকরি পাওয়ার কোনো চিঠি ছিল না,তাই ছাড়ার জন্যেও বোধহয় চিঠি লাগবে না।" ফোনের ওপারে থাকা অনুভূতিহীন মানুষটাকে এক মুহুর্তে আবেগ অনুভূতিপূর্ণ সাধারণ মানুষের পর্যায়ে নিয়ে আসতেই উনি বিস্ময়ে কিছু বলার উদ্যোগ করতেই তোড়া বলল "চরম দুর্দিনে অনেক উপকার পেয়েছি আপনার কাছে।আমি সে ঋণ ভুলব না---কিন্তু চাকরিটা আমি আর করতে পারব না। ভালো থাকবেন স্যার।"ফোনটা টেবিলে রেখে বাথরুমে ঢুকে মাসখানেক আগে কেনা শাওয়ারটা খুলে ওর অঝোর ধারায় মিলিয়ে দিচ্ছিল বাঁধন হারা অশ্রুধারাকে।আর ফোনের ওপ্রান্তে থাকা মানুষটা তখন রাগে ফোনটা ছুঁড়ে ফেলে দৌড়ে স্টুডিওয় গিয়ে লণ্ডভণ্ড করে ফেলছিলেন স্বপ্নের সৃষ্টিগুলোকে।









মেঘদূত সাহিত্য পত্রিকা একটি প্রয়াস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ