স্বাধীনতা'র সুখ / সাঁজবাতি
রিক্তা র কলেজের তখন শেষ বছর।রিক্তাকে তার বাবা তাকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল নিজের পরিচয় গড়ে তোলার। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর।স্কুলের চাকরির তার বরাবর ইচ্ছে ছিল। লেখালিখি র দিকেও তার বেশ ঝোঁক ছিল।।রিক্তার ইচ্ছে ছিলো সমাজের একজন কেউ হ ওয়ার।মাথা উঁচু করে বাঁচার।সে ভেবেছিলো পড়াশোনাটা চালিয়ে যাবে।
কলেজের শেষ বছর তখন রঞ্জনের সাথে রিক্তার আলাপ।কলেজ পাস করার পরেই তার জীবনে ঘটে যায় এক চরম পরিনতি। কলেজে পড়াশোনা করার সময় রঞ্জনের সাথে তার আলাপ হয়। কোন কাজকর্ম করত না রঞ্জন তখন।কর্মহীন একটি ছেলেকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল রিক্তা।
সে জানতো তারা দুজনে সমানতালে কাজ করে পরবর্তী জীবনটা চালিয়ে নিতে পারবে অনায়াসেই।বিয়ের আগে রিক্তা রঞ্জন কে বলেছিল পড়াশোনাটা যেন সে চালিয়ে যেতে পারে।
পড়াশোনা করতে বড্ড ভালবাসত রিক্তা। রিক্তার বাড়ি তে ছিল ভীষণ কড়াকড়ি।তাই ভালোবাসার পর মেলামেশা বেশি দিন বাড়ি থেকে কেউ মেনে নেয়নি।রিক্তার বাড়ি থেকে খোঁজ নিয়ে জেনেছিল রঞ্জনের পরিবার সঠিক নয় রিক্তার জন্য। ।রিক্তা শান্ত স্বভাবের মেয়ে। সে পারবেনা সে পরিবারে গিয়ে সমস্তটা মানিয়ে নিতে ।রিক্তা বলেছিল সে সকল টা জয় করে নেবে ভালোবাসা দিয়ে। রিক্তা অটল ও অনড় নিজ সিদ্ধান্তে।রঞ্জনকে ই সে বিয়ে করবে। অগত্যা বাড়ি থেকে বিয়ে র আয়োজন করা হল।
ভালোবাসার পর বেশি দিন মেলামেশা রিক্তার বাড়ি থেকে কেউ মেনে নেয় না। তাই রঞ্জন কে ভালোবাসার ছয় মাসের মধ্যেই রিক্তা আর রঞ্জনের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়।
রিক্তা শুধু একটাই কথা দিতে বলেছিল রঞ্জনকে। তার পড়াশোনাটা সে যেন চালিয়ে যেতে পারে।
ভালোবেসে সে বিয়ে করেছিল রঞ্জনকে।
রঞ্জন জানতো রিক্তা পড়াশোনা কত ভালোবাসে।রঞ্জন সম্মতি দিয়েছিল রিক্তার এতটুকু আবদার কে। সকলকে তাচ্ছিল্য করে রঞ্জন এর হাত ধরেছিল রিক্তা ।
বিয়ের পর নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিল রিক্তা
তার শ্বশুরবাড়িতে। কিন্তু সেখান থেকে যথাযথ সম্মান সে কোনদিনই পায়নি। তার অপরাধ ছিল একটাই। সে উচ্চ শিক্ষিত। যে বাড়িতে সে গেছে সে বাড়িতে শিক্ষার লেশমাত্র ছিল না।
রিক্তা ছিল ভীষণ আদরের মেয়ে। বাড়িতে এক গ্লাস জল ভরে খেতে হয় নি তাকে। কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে জীবনটা তার ক্রমে শরশয্যা হয়ে উঠলো ।
সকালটা শুরু হতো গালিগালাজ নোংরা ভাষা দিয়ে। রাতটা শেষ হত অকথ্য অত্যাচার সহ্য করে ।মানসিক শারীরিক অত্যাচারে এক মাসের মধ্যে শুকিয়ে গেলো হাসিখুশি মেয়েটা ।
যে মেয়েটা পড়াশোনা করতে এত ভালোবাসতো বই নিয়ে বসার সময় পর্যন্ত পেত না। তার সকল গুণ সকল শখ আহ্লাদ সকল কিছু কেড়ে নেওয়া হলো ।সংসার নামক শৃংখল তার পায়ে পরিয়ে দেওয়া হলো।
কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তার বাক স্বাধীনতা ও। বাপের বাড়ি তে আসার ও অনুমতি ছিলনা।দিনের পর দিন অসহ্য অত্যাচার সহ্য করেছিল রিক্তা ।মা-বাবার কাছে মুখ পর্যন্ত খোলেনি। পাছে মা-বাবা রঞ্জনের দিকে আঙ্গুল তোলেন ।
রঞ্জন ছিল তার ভালোবাসার মানুষ। তার দিকে আঙ্গুল তুললে রিক্তার কষ্ট হতো ।সে নিজে পছন্দ করে রঞ্জন কে বিয়ে করেছিল । রঞ্জনকে কেউ কিছু বললে বাপের বাড়ির সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়া তো রিক্তা।
সংসারের চাপে পড়ে রঞ্জন একটা ছোটখাটো কাজ জোগাড় করেছিল।তাতে সংসার চলত কোনমতে। নিজস্ব হাত খরচের জন্য রিক্তা শাশুড়ির হাতে পায়ে ধরে দুটো টিউশনি জোগাড় করেছিল ।আত্মসম্মান তার বরাবর ই বেশি। স্বামীর কাছে বা শ্বশুরবাড়ির কাছে হাত পাততে তার সম্মানে লাগতো।
তাই দিন অন্তে সংসারের সমস্ত কাজ সামলে সে অর্থ উপার্জন শুরু করল।
তবু যদি পান থেকে চুন খসতো তবে শুরু হতো অকথ্য গালিগালাজ। রিক্তা সমস্তটা সহ্য করত রঞ্জনের মুখের দিকে তাকিয়ে ।ভাবতো আজ নয় কাল সব ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু কিছু জিনিস কোনদিনও ঠিক হওয়ার নয়।
সকলের খাওয়া দাওয়ার পর কাজ সেরে জানালা দিয়ে যখন আকাশের দিকে সে চাইতো খোলা আকাশটাকে সে দেখতো ।তার স্বপ্ন ছিল একদিন সে অনেক পড়াশুনা করবে কোন একটা স্কুলে পড়াবে।
সে নিজে কিছু লিখবে নিজের পরিচয় তৈরি করবে কিন্তু কোথায় তার পরিচয় ?কোথায় তার স্বপ্ন? তার পরিচয় কি রঞ্জনের স্ত্রী এতটুকুতেই সীমিত?
এর বাইরে কি তার কোন পরিচয় নেই ?
কালের নিয়মে সেও তো একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে তবে কি তার স্বপ্ন তার কিছু করার ইচ্ছে সবটা নষ্ট হয়ে যাবে ?কেউ তাকে চিনবে না?
তার বাবা যে তাকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল বড় মানুষ হওয়ার ।সমাজের একজন হওয়ার ।তবে সেই স্বপ্ন কি তবে মিথ্যে? সে কি ভালবেসে ভুল করেছে? সে কি মা-বাবার কথা না শুনে ভুল করেছে? সে কি পাশের মানুষটাকে বিশ্বাস করে তবে ভুল করেছে? এসব ভাবতে ভাবতে তার দুচোখের জল গড়িয়ে গাল ছুঁতো ।
দুচোখের জল মুছে সে আবার সংসারের কাজে লেগে পড়তো। এভাবে চলছিল নরক যন্ত্রণা। অত্যাচার ক্রমশ বাড়তে থাকে। রিক্তার বিয়ে হয়েছে প্রায় চার বছর হতে যায় ।তার সন্তানের হয়নি এখনও। তাই শাশুড়ি সকালে উঠে তার মুখ দেখেনা।
শ্বশুরমশাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাকে কটু কথা শোনায়। পাড়ার লোক নিন্দে করে চার বছর কেটে গেছে। তার সন্তান হয়নি তাই।
রঞ্জন শুধু দুবেলা কেরানির চাকরি করে আর বাড়ি ফেরে, বাবার পয়সায় তাদের সংসার চলে। তাই বাবা-মার মুখের উপরে বলার কিছু নেই তার। মেরুদণ্ড তার বড্ড ব্যাঁকা মুখে তার কুলুপ আটা।তাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল এ মানুষ সে নয়। বদলে গেছে রঞ্জন।চেনেনা রিক্তা এ রঞ্জনকে।
বিয়ের পর রঞ্জনকে যখন পড়াশোনার কথা জানিয়েছে রঞ্জন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বারবার।রিক্তা বরাবরই নিজের দায়িত্ব নিজে নিতে ভালোবাসতো। সে জীবনে কিছু করতে চেয়েছিল নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছিল ।বিশ্বাস করেছিল এমন একটা মানুষকে যে মানুষটার কোন মেরুদণ্ড ছিল না। রঞ্জন এর কাছে সে কোনদিন ওই অর্থ আশা করেনি। সে আশা করেছিল এক চিলতে ভরসা ।কিন্তু সে ভরসার কাঁধ সে কোনদিনই পারেনি ।সে
দিয়েছে শুধু অসম্মান গালিগালাজ আর দিন শেষে দোষারোপের দায়। পড়াশুনো অথবা সাবলম্বী হ ওয়ার ইচ্ছে সমস্ত কিছুকে অবদমন করে রাখা হয়েছিল সংসার নামক এক বিশাল বড় পাথরের নীচে।
। একদিন ঘটে যায় এক চরম বিপ্লব তার জীবনে।খবরের কাগজের একটি বিজ্ঞাপন দেখে সে একটি চাকরির জন্য চেষ্টা করে ।
ছোটদের স্কুলে পড়ানোর একটি চাকরি । চাকরিটা তার হয়েও যায়।
বাড়িতে সেটা জানা মাত্র শুরু হয়ে যায় যুদ্ধক্ষেত্র ।বাড়িতে কেউ সম্মতি দেয় না এমনকি স্বামীও না ।সারাটা দিন সবটা সামলানোর পরে নিজ ইচ্ছে পূরণের জন্য বা নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য যদি সে কিছু করে তবে অসুবিধা কোথায় ?
অসুবিধা তো নেই ।কিন্তু অসুবিধা মানুষের মনে। ঘরের বউ বাইরে চাকরি করতে যাবে না ।এতটাই চরম পর্যায়ে অশান্তি পৌঁছায় যে গায়ে হাত পর্যন্ত তোলা হয় তার সেদিন।
রিক্তা সেদিন ঠিক করে সবকিছু থেকে বেরিয়ে আসবে । অনেক হয়েছে আর নয়। রঞ্জন ও সেদিন তাকে আটকায়নি । তার ভালোবাসার মানুষটির দিকে সে একবার খালি পিছন ফিরে চেয়েছিল ,সেদিন তারপর বেরিয়ে যায় তার বাড়ি থেকে।
কোথায় যাবে কিভাবে যাবে সে জানে না ।কিন্তু তার সহ্যের বোধহয় এটাই ছিল শেষ অধ্যায়।
বাপের বাড়িতে সে ফিরবে না ঠিক করে নিয়েছিল। তাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আশ্রয় নিল প্রিয় বান্ধবী বাড়ি।
সেখানে কিছুদিন থেকে স্কুলে চাকরিতে সে জয়েন করে।
বান্ধবী তাকে ভীষণভাবে সাহায্য করত ।মনের জোর জোগা তো। বিয়ের আগে বাড়িতে যাতায়াত ছিল ওই বান্ধবীর ।
বাড়ির সকলেই তাকে ভালবাস ত । কিছুদিন থাকার পর কোথাও আত্মসম্মানে বাঁধল রিক্তার । বিনা পয়সা য় কারো বাড়িতে এভাবে থেকে যাওয়া ঠিক নয়।
অল্প বেতন স্কুলে । সে ছোটখাটো একটা বাড়ি ভাড়া নিল। সেখানে থাকলো কিছুদিন। কেটে গেলো এভাবে ছ টা মাস।
রিক্তা রঞ্জনের সাথে কোন সম্পর্ক রাখতে চাইনি । সে বদলে নিয়েছিল নিজেকে পুরোটাই। তার কালো ছায়াটা কিছুতে তার জীবনে আর পড়তে দেবেনা ঠিক করেছিল । যোগাযোগ রেখেছিল মা বাবার সাথে।
বাবা-মা অনেক বলা সত্ত্বেও সে বাপের বাড়ি গিয়ে ওঠেনি। বাবাকে সে বলেছিল," যদি কোনদিন মানুষ হতে পারি যদি তোমার র ইচ্ছে পূর্ণ করতে পারি তবেই তোমার বাড়ি যাবো "।
ছোটবেলা থেকেই রিক্তা ভীষণ জেদি ছিল।
হঠাৎ নতুন একটা ভালো চাকরি সুযোগ পায় সে ।সেখানে মাইনেও বেশি।
কানাঘুষো তে শুনেছিল সে ,রঞ্জন কাজ ছেড়ে বেকার বসে নাকি বাবার পয়সায় খায়।
তাতে তার কিছু যায় আসে না ।শুধু আফসোস হয়। এমন একটা মানুষকে সে বিশ্বাস করেছিল যে কোনদিনও তার ভরসার কাঁধটা হতে পারেনি।
রিক্তা প্রচুর পরিশ্রম করত।
আমাদের সমাজে আসলে একটা মেয়ের বেঁচে থাকার লড়াইটা ভীষণ কঠিন ।একা একা বাঁচতে হলে একটা মেয়েকে অনেক শক্ত হতে হয়। এ লড়াই সে চালিয়ে গিয়েছে একা ।
এক সময় যে স্বপ্নটা সে দেখেছিল সেটা পূরণ করার ইচ্ছে জাগলো মনে মনে।সে আবার পড়াশোনা শুরু করল। লেখা লেখি ও শুরু করলে ।
দুপুরে বাড়ি ফিরে পড়াশোনা নিয়ে বসে পড়তো ।বিকেলে টিউশন রাতে ফিরে লেখালিখি।
এই নিয়ে চলছিল তার জীবন।
প্রতিটা পত্রিকার সংবাদপত্রে নিজের লেখা পাঠাতো। কোনটায় নির্বাচিত হতো কোনটা নির্বাচিত হতো না ।
এভাবে চলতে চলতে একদিন ঘটে গেল এক মিরাক্কেল ।তার লেখা নির্বাচিত হল একজন সম্পাদকের অফিসে।
। ততদিনে তার মাস্টার্স কমপ্লিট হয়ে গেছে । বোধ হয় সত্যি হতে চলেছে এবার তার স্বপ্ন।
এক অদম্য লড়াইয়ের পরে একটি শুভ তিথিতে প্রকাশিত হলো তার লেখা প্রথম বই ।
যে স্বপ্ন সে দেখেছিল কিছু করার ,যে স্বপ্ন তার চোখে ছিল সমাজের একজন কেউ হয়ে ওঠার সেই স্বপ্ন তা আজ পরিপূর্ণ হলো।
সেই লেখার জন্য তাকে প্রতিটা পদক্ষেপে লড়াই করতে হয়েছিল ।পায়ের কাটা বিছানো রঞ্জন কে রিক্তা চেনেনা কোনদিনও দেখেনি। সেই ব ই এ লিখেছিল সে তার জীবনী নিয়ে।
যে মানুষটাকে সে ভালবেসেছিল তাকে ভালোবেসে সে সমস্ত কিছু ছেড়ে দিয়েছিল একদিন, কিন্তু সে মানুষটাই মানুষ ছিলনা কোনদিনও।সে প্রতিটি পদক্ষেপে রিক্তাকে আটকাতে চেয়েছিল।
কিন্তু রিক্তা কে আটকানো সম্ভব ছিল না।এ সাফল্যের খবর ততক্ষনে হয়ত রঞ্জনের কানে পৌঁছে গিয়েছিল হয়ত।
তার ব ই প্রকাশের দিন নির্ধারিত হয়।স্টেজে উঠে গন্য মান্য সাহিত্যিকদের সান্নিধ্যে প্রকাশিত হল তার প্রথম লেখা বই । অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল তার বাবা-মা। বাবার চোখের জল এসে গিয়েছিল। একদিন তার বাবা যে স্বপ্নটা দেখেছিল সেদিন সেই স্বপ্নটা হয়তো পূরণ করতে পেরেছিল রিক্তা। সেদিন কিছু বলতে গিয়ে রিক্তার দুচোখ ভরে উঠেছিল জলে।
। বিশ্বাস করে সে ঠকে গেলেও দিনশেষে ঈশ্বর তাকে ঠকাননি। অনুষ্ঠান শেষের পরে গেট থেকে বেড়ানোর সময়,তার চোখ হঠাৎ গিয়ে পড়ে একজন মানুষের দিকে। একজন চেনা মানুষ। রুগ্ন শরীরে গেটটি ধরে একপাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
তার বুকটা ছাঁত করে উঠলো। এই মানুষটা সেই মানুষটা না !যে মানুষটাকে এক দিন ভালোবেসে সে বিয়ে করেছিল? হ্যাঁ রঞ্জন ,রঞ্জন এসে দাঁড়িয়েছে গেটের সামনে। রিক্তা যদি তাকে আবার কোন সুযোগ দেয়।
কিন্তু সে সুযোগ তাকে দ্বিতীয় বার দেবে না। তাকে ভালোবেসে বিশ্বাস করেছিল রিক্তা। কিন্তু যেভাবে সে ঠকেছে প্রতারিত হয়েছে তারপরে যদি সে আবার দ্বিতীয়বার সুযোগ দেয় তাতে তার আত্মসম্মান ক্ষুন হবে।
রিক্তা চোখ সরিয়ে নিয়ে,আবছা হয়ে আসা চোখটা মুছে , নিজের বইটাকে বুকে চেপে ধরে ,নিরবে নিভৃতে গেটের বাইরে চলে যায় ।যে মানুষটাকে সে জীবনে সব থেকে বেশি পাশে চেয়েছিল সে মানুষটা সেদিন তার পাশে ছিল না। তাই আজ যখন সে একা লড়াইয়ের পর স্বাধীনতার সুখ পেয়েছে ,সে স্বাধীনতা তেও সেই মানুষটাকে সে রাখতে চায় না ।রিক্তা মুখ ফিরিয়ে চলে যায়। রঞ্জনের দিক থেকে অচেনা র ভান করে ।এখানে ই তার স্বাধীনতার জয় ধ্বনি রচিত হয়।রঞ্জন একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে যতদুর পর্যন্ত দেখা যায় রিক্তাকে।একসময় রাস্তা আর মানুষ মিলিয়ে যায় একসাথে।

0 মন্তব্যসমূহ