মেঘদূত সাহিত্য পত্রিকা

বিশ্ব বঙ্গীয় সাহিত্য কলা আকাদেমি অধিভুক্ত পত্রিকা

শনি রবির সাহিত্য বাসরঃ শাস্তি /শৌনক ঠাকুর




শাস্তি


বাইরের বারান্দায় কাগজটা নিয়ে বসেছিলেন কিরণবাবু। আমি যেতেই তিনি বললেন, "আসুন আসুন।"

কাঠের চেয়ারটা এগিয়ে দিয়ে আমাকে বসতে বললেন। তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, "চা খাবেন?"

আমি বললাম, "হলে মন্দ হয় না।"

কিরণবাবু ঘরে চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর উনি ফিরে এলে আমি বললাম, "চারিদিকে যা সব চলছে। বাইরে বেরোনো দায়।"

উনি শুধু ঘাড় নেড়ে সম্মতি দিলেন। একথা সেকথা হওয়ার পর আমি বললাম, "আপনার কাছে আমি..."

হঠাৎ আমার ফোনটা বেজে উঠায় কথার তাল কাটল। রিসিভ করে বললাম, "একটু পরে করছি"


   নিতাই  দু'কাপ চা আর কিছু বিস্কুট দিয়ে গেল। 

"আসুন, চা নিন" কিরণবাবুর বললেন।

"আপনার ছেলের খবর পেলাম।" আমি একটা বিস্কুট তুলে নিয়ে বললাম।

তিনি সলজ্জ ভাবে বললেন, "ওই আর কি।"

"এত বড়ো খবর। শুধু এই শহর নয়, দেশের নয়, সারা বিশ্বের গর্ব আপনার ছেলে।" আমি উৎসাহিত হয়ে বললাম।

তিনি কেবল মুচকি হাসলেন।

আমি বেশ জোরেই সঙ্গে বললাম, "এটা কি কম গৌরবের কথা। আপনার ছেলে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে।"

তিনি নরম গলায় বললেন, "কৃতিত্ব কিন্তু আপনার।"

আমার কপালে ভাঁজ। আমি অবাক হয়ে বললাম, "ঠিক বুঝতে পারলাম না।"

চা শেষ করে কাপটা রেখে তিনি বললেন, "বত্রিশ বছর আগের কথা। "

আমার শরীরে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। 

একটু নীরব থেকে তিনি বললেন, "সেবার হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষায় আমার ছেলে পদার্থবিজ্ঞানে ছয় পেয়েছিল। সকলের সামনে আমার ছেলেকে আপনি বলেছিলেন কুকুরের পটি মাথায় রেখে প্রতিদিন দু'ঘন্টা রৌদ্রে বসে থাকতে। তবেই বিজ্ঞানে মাথা খুলবে।"

আমার মাথা নিচু হয়ে গেল। কপালে তখন ঘাম জমতে শুরু করেছে।

কিরণবাবুর হাসতে হাসতে বললেন, "ভাগ্যিস সেদিন টোটকা দিয়েছিলেন.."

কথাটা শেষ না হতেই আমি কিরণবাবুর হাত দুটো চেপে ধরে বললাম, "আর লজ্জা দেবেন না। মানুষকে উপহাস করার শাস্তি আমি পেয়েছি। কাল গোটা রাত ঘুমোতে পারিনি। তাই তো সকাল সকাল এসেছি আপনার কাছে ক্ষমা চাইতে। কিন্তু কীভাবে শুরু করবো বুঝতে পারছিলাম না।"






মেঘদূত সাহিত্য পত্রিকা একটি প্রয়াস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ