প্রতারণা
বালিগঞ্জে আহেলি দের বাড়ি। একটি সুন্দর পরিবেশে মানুষ আহেলি।সুন্দরী ,স্মার্ট ,শিক্ষিতা মা বাবার একমাত্র মেয়ে ।যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এ ইংলিশ অর্নাস নিয়ে পড়াশোনা করছে। লেখাপড়া য় ভীষন ভালো।
নর্থের ছেলে আদিত্য।ছাপোষা একেবারে। মধ্যবিত্ত বাড়ির একমাত্র ছেলে।সাদামাটা সাধারন ।তবে ভীষণ ভালো সহজ সরল একজন মানুষ।
দুজনের আলাপ একই কলেজে ওরা সেম ব্যাচ ।দুজনই ইংলিশ অনার্স। সাথে সাথে গান-বাজনার দিকে ও বেশ ঝোক দুজনেরই।
তবে আহেলির গান ছিল প্রান।সে ভেবেছিল গান নিয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে।এটাই তার একমাত্র স্বপ্ন ছিল।
আর আদিত্য সারা দিন ফুটবলে ডুবে থাকতো। ফুটবল মানেই ওর কাছে মোহনবাগান। সারাক্ষণ মোহনবাগানের গল্প ওর মুখে লেগে থাকত। দুজনে ভীষণ ভালো বন্ধু। দুজনেই মনের সব কথা শেয়ার করত।দুজনের বাড়িতে আসা যাওয়া সব ই চলত।
দুজনের বাড়ি থেকে ই দুজনকে বেশ পছন্দ করত।
কলেজেও দুজনের বন্ধুত্ব ফেমাস ছিল।ঝগড়া করে
একদিন ও পেরাতো না ।দোষ না থাকলেও আদিত্যকেই প্রথম sorryটা বলতে হতো সবসময়।
তবে বন্ধুত্ব র থেকে বেশি কিছু হয়তো ছিল না আর ওদের মধ্যে।হয়তো আদিত্য র ওকে ভালো লাগতো কিন্তু আহেলির পছন্দটা একটু অন্যরকম ছিল ।ওআদিত্য সেটা জানত।তাই সাহস করে কখনো মনের কথাটা বলে উঠতে পারিনি কোনদিনও।
আহেলি সব সময় বলতো ,"ও যাকে ভালবাসবে তাকে ভীষণ হ্যান্ডসাম হতে হবে"।একটা ব্যক্তিত্ব থাকতে হবে । ভীষন ম্যাচিউর হতে হবে "।অনেক শর্ত ছিল ।যেন তাকে দেখে চোখ ফেরানো যায়না এমনকিছু।
আর সেইসব আদিত্যর মধ্যেও খুঁজে পায়নি ও কোথাও আর সেটা আদিত্য ভালো করে জানত।
তাই ওদের সম্পর্কটা শুধু বন্ধুত্ব পর্যন্তই চলছিল।
আর আদিত্য নিজে থেকে কখনো কিছু বলেনি ।ও জানত উত্তর না আসবে।তাই বলে বেকার বন্ধুত্ব নষ্ট করার কোন মানেই হয়না।
তখন পার্ট ১ পরীক্ষার পরে কলেজ ফেস্ট সামনেই।
ডিসেম্বর মাসে ক্রিসমাসের ফেস্টে একটা নামি বাংলা ব্যান্ড কলেজে আসবে ঠিক হল।আহেলির ভীষন প্রিয় ব্যান্ড" রুদ্রাক্স"।এই ব্যান্ডএর প্রধান গীতিকার রুদ্র চ্যার্টাজী ওর ভীষণ প্রিয়।ওর গান আহেলি শুনতে ভীষন ভালোবাসাতো।
আর যখন শুনলো ওর প্রিয় ব্যান্ড কলেজ আসছে ,তখন নিজেকে আর সামলে রাখতেই পারলোনা।খুশিতে নেচে উঠল।
রুদ্র ওর ড্রিম পার্সন। ভীষন হ্যান্ডসাম, ভীষন ভালো গান গায়।আহেলির মনের ছবির সাথে একেবারে মিলে যাওয়ার মতো।
ভীষণ বড় ফ্যান ছিল রুদ্র চ্যাটার্জীর।তার প্রিয় ব্যান্ডটাই যে আসছে কলেজে। এটা ভেবে সে ভীষণ এক্সাইটেড হয়ে যায়। আদিত্যকে বলে," আমি রুদ্র চ্যাটার্জীকে এতদিন পর সামনা সামনি দেখব"।ভেবেই তার আনন্দ আর ধরছিল না।আদিত্য বলে, এত excited হোসনা,এলে তো দেখতেই পাবি।আহেলি বলে ,শুধু দেখবনা autograph ও নেবো।
তার মনের ইচ্ছে অপেক্ষার অবসান ঘটে ২৪শে ডিসেম্বর ।ওদের প্রোগ্ৰাম টা ছিল ।সেদিন যথারীতি ভীষণ সুন্দর করে সাজে আহিলি ।দেখতে দেখতে সন্ধ্যে নেমে এলো ব্যান্ডের সবাই এসে হাজির হলো ।স্টেজে দারুণ প্রোগ্রাম হল। রুদ্র চ্যাটার্জী স্টেজে উঠলে আহেলি তাকেই দেখতে ই থাকে।কি ভীষন সুন্দর personality তার।আর তেমনি গানের গলা।
প্রতিটা গান হিট এই ব্যান্ডের।সে শুধু অপেক্ষা করল প্রোগ্ৰাম শেষ হ ওয়ার।
প্রোগ্রাম শেষে সে ছুটে গেল তার প্রিয় মানুষটির সঙ্গে দেখা করতে। একটা অটোগ্রাফ নিতে। কাগজ পেন বাড়িয়ে, সোজা রুদ্র চ্যাটার্জী কে বলল আমাকে একটা অটোগ্রাফ দেবেন?আমি ভীষন বড় ফ্যান আপনার।
তিনি বললেন হ্যাঁ নিশ্চয় ই। আহেলির তো আনন্দে আর ধরে না ;কারণ এতদিন যাকে দুর থেকে দেখেছিল সে তার সামনে আজ।
এই ব্যান্ডে তার গান গাওয়ার ভীষণ ইচ্ছে ছিল ।মনে জোর রেখে বলে ই ফেলল ,আমি আপনাদের সাথে যুক্ত হতে চাই।আমিও একটু আধটু গান করি।যদি একটা সুযোগ করে দেন।
আপনার ফোন নাম্বারটা কি পেতে পারি ?আমার ভীষণ ইচ্ছে এই ব্যান্ডের সাথে গান গাওয়ার।
তো উনি বললো অবশ্য ই।আমরাও চাইছিলাম নতুন কন্ঠ আমাদের ব্যান্ডে।চলে আসুন সময় করে।অডিশনএ সিলেক্ট হলে অবশ্যই গাইবার সুযোগ পাবেন।
ফোন নাম্বার পেয়ে ভীষণ খুশি হয়ে গেল আহেলি সেদিন। আহেলি বেড়িয়ে আনন্দে আদিত্যকে জড়িয়ে ধরে সবটা বলল...
আদিত্য বলল,বাঃ বেশ ভালো।
কিছুদিন পর আহেলি ঐ ব্যান্ডের সাথে দেখা করল।
অডিশন দিল এবং সিলেক্ট ও হলো।ও তো ভীষন খুশী। মনের ইচ্ছে পূরণ হলো এতদিন পরে।
ও ওখানে নিয়মিত যেত।গান গাইতেও শুরু করল। ধীরে ধীরে রুদ্রর সাথে খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেল।
ওর ড্রিম পার্সন ওর এতো কাছে ভাবলেই যেন ও শুন্যে ভাসতে থাকে।রুদ্রর সাথে ওর ঘনিষ্টতা বেড়েই চলছে ক্রমশ।দুজনে একসাথে সময় কাটানো ,গানের প্রোগ্ৰাম করা।রুদ্রকে ভীষণ ভালোবেসে ফেলে আহেলি।সবার নজরে সেটা বেশ পড়ছে।
। সকলেই খেয়াল করেছে সেটা। বন্ধু ত্ব বাড়তে বাড়তে সেটা চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেল একদিন।
আদিত্য একবার ওকে বারণ করেছিল
বলেছিল, রুদ্র ভালোনা অত মেলামেশা করিসনা। সম্পর্কটা গান পর্যন্ত সীমিত রাখ।সোস্যাল মিডিয়ায় রুদ্রকে নিয়ে অনেক গসিপ আছে। আহেলি ওর কোন কথাতেই কান দেয়না।
আহিলি একটা কথাও শোনে নি। ওদের সম্পর্কটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করল ।হাজার বারণ করা সত্ত্বেও যখন আহেলি কথা শোনেনি।তখন আদিত্য ওকে আর বেশি জোর করে না।
যদি ও আবার ভুল বোঝে তাই ।
ধীরে ধীরে শুরু হলো লেট নাইট বাড়িতে আসা।গানের জগতে তখন ওরা ভীষণ হিট জুটি। আহেলির পড়াশোনা একবারে মাথায় উঠেছে।
সারাদিন প্রায় গান নিয়ে বসে থাকতে পারলেই ওর দিন চলে যেত। বাড়ি থেকে এই ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছিল ওর বাবা । বাড়িতে বুঝিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
। আদিত্যকে তাই একবার ডেকে পাঠিয়েছিল । আদিত্যকে ডেকে ওর বাবা বলেছিল ,যে আহেলি তো সারাদিন গান নিয়েই পড়ে থাকে পড়াশোনা একদম মাথায় উঠেছে।
আর রুদ্র নামক এই ছেলেটি কেমন ছেলে? আদিত্য এ ব্যাপারে কিছু জানে কিনা ?কিন্তু আদিত্য বাড়িতে কিছু বলতে পারেনা একটাও মুখ খোলেনি । ও জানে এখানে কিছু বললে আহেলির কাছে ও খারাপ হয়ে যাবে ।আহেলি ওকে ভুল বুঝবে আর সেটা ও কখনোই মেনে নিতে পারবে না।ও জানত আহেলির মত স্মার্ট মেয়ে বোধহয় সবটা সামলে নিতে পারবে।
ওর বাবা বলল আমার মনে হচ্ছে, ছেলেটি কিন্তু সুবিধার নয়। তুমি একটু তোমার বন্ধুকে বোঝাও । আদিত্য বলল আচ্ছা কাকু বোঝাবো।
কিন্তু হাজার বার বোঝানোর সত্ত্বেও আহেলি কিছুতেই কারোর কথা শুনতে চাইনি ।ওদের সম্পর্কটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করে আরো গভীরে। ধীরে ধীরে সম্পর্কটা ও গতি পায় এবং এমন একটা পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায় যেখানে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে বসে সে রুদ্রর কাছে ।
কিছু অশ্লীল ছবি এবং ভিডিও রুদ্র আহেলির কাছ থেকে ভালোবাসার নাম করে আদায় করে নিয়েছিল। এবং ভালোবাসা র জালে ফাঁসিয়ে প্রথমে টাকা পয়সা তারপর গয়না যতটুকু ওর ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ছিল সবটুকু নিজের নামে করে নেওয়ার চেষ্টা করে ।
আসলে ও কোন রকম চিন্তা ভাবনা কিছু না করেই রুদ্র কে ও অন্ধ বিশ্বাস করে বসে।ভালোবাসে বলে সম্পূর্ণ নিজেকে উজাড় করে দিয়ে যেতে থাকে রুদ্রের কাছে।
কিন্তু এভাবে চলতে চলতে একদিন ওর খটকা লাগে। । আর সেটাকে মেনে নিতে পারছিল না।
ও দেখতে শুরু করল ইদানিং ওর ফোন রিসিভ করছে না ঠিকঠাক রুদ্র।ও মেসেজ করলে আনসার করছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব কম অন হচ্ছে।
ঠিকঠাক রিপ্লাই পায় না। যে স্টেজ শো গুলো আহেলি করত ধীরে ধীরে সেই স্টেজ শো গুলো র সংখ্যাও কমতে থাকে ।
কেননা বেশিরভাগ স্টেজ শো অ্যারেঞ্জ করত রুদ্র।। যেখানে আহেলি কে নিয়ে যেত, আস্তে আস্তে সেখানে নিয়ে যাওয়ার তাগিদটা ও কমিয়ে দিল। গানের জগৎ থেকে ওকে দূরে ঠেলতে শুরু করল।এটা মেনে নিতে পারলেও কিন্তু ভালবাসার সাথে কম্প্রোমাইজ মেনে নিতে পারছিল না আহেলি।
তখন ফাইনাল ইয়ার পরীক্ষা প্রায় সামনে। একদিন সরাসরি রুদ্রকে আহেলি প্রশ্ন করল কেন সে আহেলিকে এভাবে ইগনোর করছে ? রুদ্র সরাসরি ডিনাই করল ।বলল আমি এমন কিছু করিনি ।তুমি তো সবে এক বছর হয়েছে গানের জগতে এসেছো ।তুমি কি ভাবছো এক বছর এসেই তুমি নামটা কিনে নেবে ?এতটা সহজ নয় সবকিছু। আমি আজকে টানা ১৫ বছর এ জগতে রয়েছি, তারপরে গিয়ে সবাই রুদ্র চ্যাটার্জীকে কে চিনছে।
আর তুমি দুদিন এসেই ভাবছো যে সবাই চিনে যাবে তোমাকে।আহেলি এই রকম উত্তর শুনে কি করবে ও বুঝতে পারছিল না । ও নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে। ওর রাতারাতি চারদিক শূন্য হয়ে আসে।
হঠাৎ একদিন ওর এক বন্ধুর ফোন থেকে রাতে একটা এসএমএস আসে। ম্যাসেজটা পড়ে ওর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায় ।ও ঠিক তখন কি করবে ও বুঝতে পারে না ।
দেখে যে ভিডিওটা , ছবিগুলো রুদ্র কে বিশ্বাস করে পাঠিয়েছিল সেগুলোও মোটা টাকায় ও বিক্রি করে দিয়েছে। সেগুলো এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ।এবং আহেলির বান্ধবী কোনভাবে সেগুলো হাতে পেয়ে ওকে ও মেসেজে পাঠিয়েছে ।
বিশ্বাস ভালোবাসা এগুলো মেয়েদের সবথেকে বড় শত্রু। মেয়েরা আসলে নিজেদেরই নিজেদের সবথেকে বড় শত্রু ।মেয়েরা বিশ্বাস করে; মেয়েরা ভালোবাসে ঠকে যাওয়ার জন্য ভালোবাসে। খুব কম ছেলেই আছে যারা মেয়েদের এই বিশ্বাসটা ,এই ভালোবাসা টুকুর সম্মান করতে জানে।
আহেলি কোনোরকমে রাত কাটিয়ে পরদিন সে
রুদ্রের বাড়িতে গিয়ে দেখলো ও বাড়িতে নেই ।ফোন করলে ফোন রিসিভ করছে না। আদিত্যর সাথে আহেলির মেলামেশাটা কিছুদিন বন্ধই ছিল ।
আদিত্য একটু দূরে দূরেই থাকত।ওকে বেশি বোঝাতে গেলে যদি ভুল বোঝে,যদি বোঝে নিজের জায়গা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে ।যদি এমন মনে করে,তাই ও দুরত্বটাই ও ঠিক মনে করেছিল।
আহেলি দিশেহারা হয়ে ঐ মুহুর্তে আদিত্যর বাড়িতে ছুটে গেল।
সবটা বলবে ওকে ।বেল বাজানোর পরে আদিত্য দরজা খুলতেই ,কিছু বলার আগেই ওকে জড়িয়ে ধরল ।হাউ হাউ করে কাঁদল।
আদিত্য বলল কি হয়েছে তোর ?কেন কষ্ট পাচ্ছিস? কেন কাঁদছিস?আমি তোকে প্রথমেই বলেছিলাম এখনো সময় আছে । কিন্তু তুই শুনিসনি।ও সবটা আদিত্য কে বলল।
আদিত্য কি করবে বুঝতে পারছিলনা । কিন্তু আহেলির পাশে থাকাটা জরুরি এটা ওর আগে মনে হলো। আদিত্য বলল ,আমি তো আছি চিন্তা করিসনা।
আদিত্যর এক আত্মীয় পুলিশের উচু পর্যায়ে ছিলেন । আহেলিকে তার কাছে নিয়ে যায় আদিত্য ।বাবা-মাকে জানানোর মতো মুখ ছিল না তার।সেখানে গিয়ে সমস্তটা বলে এবং তিনি কথা দেন যে এই সমস্যা থেকে আহেলি কে উনি বার করবেন । চিন্তা না করতে।
রুদ্র রীতিমত উধাও হয়ে গেছে। রুদ্র নিজের ফ্ল্যাটে নেই ।ফোন নট রিচেবল।কিন্তু পুলিশের ছুঁলে ১৮ ঘাঁ কথা আছে।
পুলিশের সূত্র ধরে কিছুদিনের মধ্যেই রুদ্রকে খুঁজে বার করা হয়। এবং তাকে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হয়। এবং যেসব ভিডিও গুলো লিক করেছিল মিডিয়া থেকে সেগুলো ডিলিট করা হয়।
আহেলি একেবারে নিস্তব্ধ হয়ে যায়। হাসিখুশি একটা ফুটফুটে মেয়ে একেবারে নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে ।নিজেকে ঘরে বন্ধ করে নেয় ।অনেক কিছু বলার আছে কিন্তু কাউকে কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না ওর ।কেন করল কি কারণে করল ও কিছু জানে না ।ও শুধু এটা জানে ও ভালোবেসেছিল ।সে ভালোবাসার মধ্যে কোন স্বার্থ ছিল না ।একটা ঝাঁ চকচকে স্বপ্নের জগৎ ছিল।কিন্তু ছেলেরা বোধ হয় এরকমই হয় ।অবশ্য সব ছেলেরা নয় ।
মানুষ চিনতে ভুল করেছে ও।মানুষের রূপ সৌন্দর্যের পিছনে একটা নোংরা মুখ লুকিয়ে আছে সেটা সে বুঝতে পারেনি। তাই অনেক মেয়ের মতোই সে ও প্রতারিত হয়েছে ।
ভীষণভাবে প্রতারিত হয়েছে। একটা মেয়ে ভালোবেসে তার সবটুকু তার ভালোবাসাকে দেয় । তার ভালোবাসার ও উচিত সেটাকে খুব যত্নে আগলে রাখা ।
কিন্তু মেয়েরা যে ভুলটা করে ,মানুষ না জেনে বিশ্বাস করে ফেলে এবং অপরপক্ষে নোংরা মানুষটা সেটা সবার কাছে বিলিয়ে দেয় এমনকি তার ভালোবাসাটাকেও।
দরজা বন্ধ করে বসে থাকে আহেলি। হাজার বার ডাকলেও ও দরজা খোলে না।
বাবা-মার হাজার প্রচেষ্টার পরেও আহেলি দরজা খোলে না তাই বাধ্য হয়ে আদিত্যকে ফোন করে আহেলির বাবা।
। আদিত্য আসার পরে আহেলি দরজা খোলে। দরজাটা খোলে কিন্তু ওর সামনে মুখ দেখাতে লজ্জা করে আহেলির ।কিন্তু আদিত্য একটা ভালো বন্ধুর মতো ,ওর বাবার মত ওর কাঁধে হাত রেখে বলে,আমি তো আছি তোর চিন্তা কিসের ।আমি থাকবো তোর পাশে সারা জীবন। আমরা দুজনে ভাগাভাগি করে নেব তোর যন্ত্রণাটা ।তুই তো জেনে শুনে কিছু করিস নি।
আর ভালোবাসা তো অপরাধ নয় তুই এমন একটা মানুষকে ভালবেসে ছিলি যে তোর ভালবাসাটা নিয়ে বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। তার জন্য তুই কেন কাঁদছিস ? তুই কেন কাঁদছিস ?
কার জন্য চোখের জল ফেলছিস তুই ?সেই মানুষটার জন্য যে তোকে কোনদিনও ভালোবাসেনি ।ভালবেসে ছিল তোর শরীরটাকে।
সেটা যখন সে পেয়ে গেছে ,তখন তোকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। সেই মানুষটার জন্য তুই কাঁদছিস। তাহলে তুই কাঁদ আমি চলে যাচ্ছি। তুই এখনো তার জন্য ই কাঁদতে থাক।
ভালোবাসা মানে মেন্টাল সাপোর্ট যেখানে মেন্টাল সাপোর্ট নেই সেখানে ভালোবাসা থাকে না ।আদিত্যর হাতটা ধরে আহেলি বলল ,তুই আমাকে ছেড়ে যাস না।
কিন্তু আমি কলুষিত হয়ে গেছি। আদিত্য ওর মাথায় হাত রেখে বলল গঙ্গার জল কখনো কলুষিত হয় না ।গঙ্গার উপর তো সবাই ময়লা ফেলে। কিন্তু স্রোতে তা ধুয়ে যায় ।
চল ওঠ এবার পড়াশোনা করতে হবে।সামনে পরীক্ষা। আবার প্রমাণ করতে হবে তুই বেষ্ট।
আর এখন আপাতত রেডি হয়ে নে।একজায়গায় নিয়ে যাব তোকে।তোর প্রিয় লং ড্রাইভে যাব। তুই রেডি হয়ে নে চট করে।
আহেলি বুঝতে পেরেছিল রূপ সৌন্দর্য ই সবকিছু নয়। বিশ্বাস , ভালোবাসা য় ভরা একটা হাত সবসময় দরকার জীবনে।
দুজনে হাত ধরে বেরিয়ে পড়ল ।এই হাত ধরাটা যেন প্রতিটা মেয়ে তার জীবনে পায় ।এই হাত ধরে রাখার মানুষটার ভীষণ অভাব। সব থেকে বেশি ভুল মেয়েরা করে ভুল মানুষকে ভালোবেসে। আরে শুধরে কাছে টেনে নেওয়া র মানুষগুলোর ভীষণ অভাব তাদের জীবনে।

0 মন্তব্যসমূহ