কাগজের নৌকা
ট্রেনটা মসলন্দপুর স্টেশনে এসে দাঁড়াতেই ঘুমটা ভেঙে গেল শর্মিলার। উঠে বসে জানলা দিয়ে দেখার চেষ্টা করল কোন স্টেশন এল । ছটার আগে তো পৌঁছানোর কথা নয়। এখন আর ঘুম হবে না এমনিতেই শর্মিলার ঘুম খুব পাতলা । একবার ভেঙ্গে গেলে তা আসতে অনেক সাধ্য সাধনা করতে হয় বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এরকম ছোটখাটো অনেক ব্যাধি তাকে আশ্রয় করেছে। তবুও শর্মিলার বয়সের তুলনায় অনেক সুস্থ সবল। এই ছাপান্ন বছর বয়সেও নিজেকে নিজের ভার বইতে হয়। রাত জেগে পত্রিকার কাজ করতে হয়।
সে সিট থেকে উঠে বেসিনে দিকে যায় এবং চোখেমুখে জল দেয় ।
বাইরে গভীর অন্ধকার কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
আর তিন ঘন্টা ।মাএ তিন ঘন্টা ।
মিনুদি চিঠিতে লিখেছিল সৌমেন দা নাকি বিলাসপুর এই আছে তবে?
অন্ধকারে হাতরে হাতরে সিটে ফিরে আসে শর্মিলা। পুরো কম্পার্টমেন্টে সবাই ঘুমোচ্ছে শুধু তার চোখে ঘুম নেই ।
আর তিন ঘন্টা পরে সে বিলাসপুরে পৌঁছে যাবে। তারপর ঠিকানা বার করতে হবে সৌমেন দার।কতটুকু সময় ?কেমন আছে সেটা দেখবে শর্মিলা। সৌমেনদাকে দেখেছে সেই কত বছর আগে।দীর্ঘ চেহারা, গ্রিক ভাস্কর্যের মতো মুখচ্ছবি, জলভরা মেঘের মতো মন্দ্রস্বরে কথা ।মাত্র ছত্রিশ বছর ,ছত্রিশ বছরে কতটা বদলায় মানুষ? শর্মিলা নিজে কতটা পাল্টেছে ছত্রিশ বছর আগে ছিপছিপে শ্যামলা লাজুক মেয়ে আর আজকের জনপ্রিয় সাহিত্যিক সম্পাদিকা শর্মিলা বসুর মধ্যে পার্থক্য কতটুকু? শর্মিলা জানে সে খুব বেশি বয়সের আক্রমণ পড়েনি। যথেষ্ট এখনো এই বয়সের সুন্দরী সে।
সেদিনের সেই ছত্রিশ বছর আগের শর্মিলা কেমন ছিল ?
সৌমেনদা বলতো ক্ষেপি । সৌমেন দা এমন অনেক কিছু বলত ।
বলত সবসময় "চালিয়ে যাও শর্মিলা তোমার হবে"।
শর্মিলা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে সৌমেন দার উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ দৈববাণী। শর্মিলা লিখে ফেলত খাতার পর খাতা।
সৌমেন দা বলত শর্মিলার কবিতা নাকি অন্তর ছুঁয়ে যায়। অথচ সামান্য ভুল ত্রুটি সম্পর্কে সৌমেন দা ছিল কঠিন। সৌমেন দা অসংখ্য গল্প শোনাতো শর্মিলা কে। কখনো শেক্সপিয়ার কখনো জীবনানন্দ দাশ ইত্যাদি।
সেই সৌমেনদা আর ছত্রিশ বছর পর সৌমেন দা, শর্মিলার কৈশোর যৌবনে সন্ধিক্ষণে সেই উদ্ভ্রান্ত সময়ের প্রথম পুরুষ।যে পুরুষ শর্মিলার জীবনটাকে আমূল বদলে দিয়েছিল ।বদলে দিয়েছিল একাধারে শর্মিলা হৃদয়ের ভাষা ।
চল্লিশ বছর আগে এক সন্ধ্যায় খরদায় প্রথম ওদের বাড়িতে এসেছিল শর্মিলার সাহিত্যের শিক্ষক হয়ে। সেই পুরুষ যার কাছে শর্মিলা নিজেকে নিঃশেষ করে উজাড় করে দিয়েছিল।
জানালার বাইরের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রয়েছে শর্মিলা চোখে ঘুম নেই.... হাতের মুঠোর মধ্যে ধরে রয়েছে মিনুদির চিঠিখানি.....
মিনুদি দেখেছে ওর ননদের বাড়ি বিলাসপুরে, ওখানে বেড়াতে গিয়ে হঠাৎ দেখা হয়েছে সৌমেন দার সাথে।
মাত্র দুটো লাইন লেখা সৌমেন দার সম্পর্কে ।তারপরে মিনুদিরদি গোটা চিঠি লিখে গেছে নিজের জীবন কাহিনী সম্পর্কে।
শর্মিলার সামনে সবকিছু ধুয়ে-মুছে একাকার হয়ে গেছে।
সৌমেন দা কেমন আছে কোথায় কিভাবে আছে ?তাকে কি আদৌ মনে আছে ?
যে মেয়েটি তাকে দেবতার আসনে বসিয়ে ছিল, কুমারী মনের সবটুকু ভালবাসা সবটুকু যন্ত্রণার নৈবেদ্য সাজিয়েছিল তার পায়ে, তা গ্রহণ করেননি সে সেদিন পূজারিণী অঘ্য। শর্মিলা কি খুব বেশী কিছু চেয়ে ফেলেছিল সেদিন?
সে কি তার যোগ্য ছিল না?
তাই হবে হয়ত।কি জানি কিন্তু যা কিছু চেয়েছিল শর্মিলা মন থেকেই চেয়েছিল। শর্মিলা ভালোবেসে ছিল সৌমেনদাকে
ভীষণ ভীষণ ভালোবেসে ছিল।
কি সুন্দর ছিল সেই সময় গুলো ।
মনে হতো বুকের ভিতরে যে ভালবাসার খনি আছে সেই অজানা অচেনা মানুষটাকে খুঁজে বার করে এনেছিল।
শর্মিলার সব গান,সব হাসিতে, সব ভালো লাগায়, রবীন্দ্র সংগীতের সুরে সবকিছুতেই ছিল সেই পুরুষটা।
কিন্তু যার জন্য এত হাসি, এত কান্না সে আধারেই রয়ে গেল।
শর্মিলা সেই মানুষটার মনের তল কোনদিনও খুঁজে পায়নি।
সৌমেনদা বলতো ,"শর্মিলা অনুভব করো, অনুভব করো...
অনুভূতি ছাড়া কবিতা হয়না পদ্য হয়না। তুমি নিজে অনুভব করতে পারলে ,তবে পাঠক অনুভব করতে পারবে।
প্রতিটি বাক্য প্রতিটি শব্দ বুকের ভেতর থেকে অনুভব করো।
কিন্তু সে নিজেকে অনুভব করেছে? কোনদিনও কি চেষ্টা করেছে যে অনুভূতি শর্মিলাকে পাগল করছে তার একটুও কি সৌমেন দার বুকে অনুরণন তোলেনি?
বাইরে অন্ধকার ফিকে হয়ে এসেছে একটা দুটো করে পাখি ডাকছে। ঘড়ি দেখল শর্মিলা 4:45 এখনো পর্যন্ত ট্রেন টা ঠিক সময় যাচ্ছে একটু হয়তো দেরি হবে তা হোক বহুদিন অপেক্ষা করেছে শর্মিলা।
আজ তার অনেক কিছু জানার আছে। বুকের ভেতরটায় যে প্রশ্ন চিহ্ন টা অহরহ রক্ত ঝরায় ।
আজ তার একটা ব্যবস্থা করতে হবে। মিনুদি র চিঠি পাওয়ার পর শর্মিলা দেরী করেনি সিদ্ধান্ত নিতে। তুষার কোনদিনও শর্মিলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেনি।
আজও করবে না জানাই ছিল। তুষার সৌমেন দার নাম চেনে জানে শর্মিলার গৃহ শিক্ষক হিসেবে।ত্রিশ বছরের বিবাহিত জীবনে সুখী ভালোবাসা সম্পর্কে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই ।
শুধু স্বামী হিসেবে নয়, বন্ধু হিসাবেও উৎসাহ জুগিয়ে এসেছে । তুষার পাশে না থাকলে হয়তো ওই জায়গায় পৌঁছাতে পারতো না ।
তার পাশে থেকেছে গত ত্রিশ বছরে প্রতিটি সুখে-দুখে ।সামান্য বিফলতায় শর্মিলার পাশে থেকেছে। তুষার তবুও শর্মিলার পূর্বজীবনের সত্যটুকু আজ পর্যন্ত জানেনা। শর্মিলা তুষারের সামনে মেলে ধরতে পারেনি? নাকি চাইনি?
শর্মিলা চাইনি সে এই অনুভূতিটাকে তুষারের সামনে উন্মোচিত করতে ।শর্মিলার জীবনের চেয়ে বড় সত্য যার ভাগ কাউকে দেওয়া যায় না।
তা বলে তুষার কে কি শর্মিলা ভালোবাসে না? অবশ্যই বাসে তুষার কে ছাড়া শর্মিলা ভাবতেই পারেনা কিছু। বিয়ের পরপরই শর্মিলার ভীষন জ্বর হয়েছিল। তুষার সেবা করে অফুরন্ত ভালোবাসা দিয়ে শর্মিলাকে সারিয়ে তুলেছিল। শর্মিলা সেটা কখনোই ভুলতে পারবে না।
তুষারের প্রতি শ্রদ্ধা তার অটুটই আছে । তুষারের সাথে বিয়ের সময়টাতে শর্মিলার মনে সৌমেন দা র স্মৃতি। কোনোদিন ভাবতে পারেনি সৌমেন দা ছাড়া অন্য কাউকে ভালবাসতে পারবে সে।
অথচ তুষার এসে সব চেনা হিসেবে গোলমাল করে দিল। আর আজ শর্মিলার ভরা সংসার স্বামী ছেলে-মেয়ে বধু নাতি-নাতনি কত সুন্দর ।
ছত্রিশ বছর পর সৌমেনদার সাথে দেখা হবে ।সময় পরিস্থিতি কিছুই আর আগের মতন নেই ।বিয়ের পর প্রথম দু'বছর মত সৌমেনদা নিয়ম খবর রেখেছিল। শর্মিলা শুনেছেন নাকি প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুলে চাকরি নিয়ে চলে গিয়েছে ।কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর শারীরিক সমস্যার শুরু হয়ে গেছে ।এই শুনে কান্নায় ভাসিয়েছিল শর্মিলাকে। প্রথমবার মা হতে চলেছিল তখন সে। নিজেকে অপরাধী মনে হয়েছিল ।সে খুব ভালো আছে ।কোন কিছুর অভাব নেই তার। কিন্তু সৌমেন দা।তারপরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে জীবনে। আর সৌমেন দা রয়ে গেছে জীবন থেকে বহুদূরে।
কিন্তু কি করতে পারত শর্মিলা তার কিছুই করার ছিলনা ।
সর্বস্ব দিতে চেয়েছিল শর্মিলা একদিন।সবকিছু উজাড় করে দিতে চেয়েছিল ।কলেজের শেষ বছর তুষারের সঙ্গে তার সম্বন্ধে হয়েছিল ।
তুষার পারিবারিক ব্যবসা শুরু করেছিল ।নিজস্ব ব্যবসা ভালো ছেলে। পরিবারের সবার পছন্দ ছিল। কিন্তু শর্মিলা ___তার পক্ষে সম্ভব ছিল না ।কেন এত কষ্ট এত যন্ত্রণা ?কেন পেতে পারেনা সৌমেন দা কে ?তবুও নিজের অনুভূতি গুলোকে নিজের মনের মধ্যে লুকিয়ে রাখতে হয়েছে ।
বিয়ের খবরটা সৌমেনদা কে বলে। সৌমেনদা বলে ভালো থেকো।এইভাবে কি করে এত সহজে বলে দিলে? সৌমেনদা বলেছিল," তোমার ভালো হবে শুধু লেখাটা নষ্ট করোনা "।
শুধু সেই দিন সবাই যখন অন্য ঘরে শর্মিলার বিয়ের জন্য জল্পনা-কল্পনায় মশগুল তখন সেই সময় তার জীবনের সমাগত জটিলতা পরিস্থিতির মুখোমুখি শর্মিলা ।নিজের জীবনের নিয়তির হাতে সমর্পণ করেছিল। এ বিয়ে হবে না সৌমেন দা।
তুমি আমায় বিয়ে করবে না ?বিয়ে করবে না?
কিন্তু কেন ? চুপ করে থাকে শর্মিলা ...কি হলো কেন বিয়ে করবে না বলতো ....শর্মিলা মরিয়া হয়ে ওঠে। তুমি বিয়ে করবে আমাকে? সৌমেন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে শর্মিলার দিকে, তারপর নিজেই মাথা নাড়ে ,আর কোন কথাও হয়না সেদিন। ভালো থেকো আমি আসি বলে বেরিয়ে যায় সৌমেন।
সেদিন বেরিয়ে গিয়েছিল সৌমেন দা তার কারন আজ পর্যন্ত জানতে পারেনি শর্মিলা।কেন সৌমেন দা নিষ্ঠুরভাবে শর্মিলা কে দূরে সরিয়ে দিল?
কেন সৌমেনদা সেদিন নিষ্ঠুরভাবে শর্মিলা কে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল সে আজও সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছে ।
ট্রেন থেকে একসময় নামে এবং একটি রিক্সা ওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করে যে সৌমেন চৌধুরীর বাড়ি চেনে কিনা? কোনদিনও সেখানে আসেনি সে। কোথায় খুঁজবে কিন্তু সেখানে এসে শেষ চেষ্টা করবেই। প্রথমে একটি স্কুলে গেলো সৌমেন দার খোঁজ করতে।সে শুনেছিল একটি অবৈতনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সৌমেন দা পড়ায়।
প্রথমে যেই স্কুল টাতে গেল হেডমাস্টার ভদ্রলোকের বয়স হয়েছে স্কুলের সারা অঙ্গে দারিদ্রতার চিহ্ন। ভদ্রলোক জিজ্ঞাসা করলেন,"আপনি কি শর্মিলা বসু ? শর্মিলা অবাক হয়ে বলল,"আপনি কি করে আমাকে চেনেন?আমি একজনের খোঁজে এসেছি ..... মাষ্টারমশাই বললেন,"আপনি কি বিখ্যাত লেখিকা শর্মিলা বসু"? শর্মিলা ঘাড় নেড়ে উত্তর দিল হ্যাঁ।
তারপরে প্রশ্ন করল আপনি কি সৌমেন চৌধুরীকে চেনেন? সৌমেন চৌধুরী কে হ্যাঁ চিনি তো। ওনার মাধ্যমেই তো আপনার সন্মন্ধে জেনেছি।অবাক হয়ে যায় শর্মিলা।
তা ওনার বাড়ির ঠিকানাটা আমাকে একটু দিতে পারবেন ?সে ভদ্র লোকের কাছ থেকে বাড়ির ঠিকানা নিয়ে শর্মিলা এগিয়ে গেল সৌমেন দার বাড়ির দিকে। সৌমেন দা সম্পর্কে ভদ্রলোক অনেক কথাই বলল ।
কিন্তু যা বলল উর্মিলা মাথার উপর দিয়ে সব বেরিয়ে গেল ।কিছুই মাথার মধ্যে ঢুকছে না। বর্তমানে সৌমেনদা মৃত্যুশয্যায় ।এমন একজন লোক যে এই মেয়েটাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে ।
তাকে আপন করতে কেন পারলো না? হঠাৎ তার শরীর টা অস্থির করে উঠল, বললো আমি আসি।
ভদ্রলোকের ঠিকানা অনুযায়ী বাড়িটির সামনে এলো। বাড়ির দেওয়ালে শ্যাওলা প্লাস্টার জ্বলে গিয়েছে। শর্মিলাকে দেখল দরজাটা বন্ধ । সামনে তিনটে বাচ্চা খেলা করছে বাচ্চা গুলোর দিকে এগিয়ে গেল ।এটা কাদের বাড়ি ?একটি কৌতুহলী বাচ্চার মধ্যে একটা বাচ্চার দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলল ওর বাড়ি।
ভারী মিষ্টি বাচ্চাটি।তোমার বাড়ির বড় কে ডেকে দাও একটু শর্মিলা বলল। শর্মিলা আবার জিজ্ঞাসা করে, এটা কি সত্যিকারের সৌমেনদার বাড়ি?ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে অল্প বয়সের একজন মহিলা। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে শর্মিলার দিকে তারপর বলে তাকে ভিতরে আসতে।
অনুসরণ করে এগিয়ে যায় শর্মিলা।
ভিতরে এসে দেখে এক মুখ দাঁড়ি গোঁফ ,গর্তে ঢোকা গাল দুটি একটি কঙ্কাল শুয়ে আছে বিছানায়।
এটা সৌমেন দা হতে হতে পারে না। ছত্রিশ বছর আগেকার সৌমেন দার সাথে এই লোকটার কোন মিল নেই। শর্মিলা দীর্ঘশ্বাস ফেলে । শর্মিলা বিছানার দিকে তাকায় ।চোখের পাতা কাঁপছে।
মেয়েটি সৌমেন দা র পুত্রবধূ পরিচয় পেল শর্মিলা। একটা বাটিতে করে তেল নিয়ে এসে সৌমেন দার পায়ে আস্তে আস্তে মাখিয়ে দিচ্ছে।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে শর্মিলা । মেয়েটি কে জিজ্ঞাসা করে তার নাম কি ? সে বলে রীনা।আর আমার মেয়ে শর্মি।এ মিষ্টি বাচ্চা মেয়েটির নাম শর্মি। তার নামের সাথে নাম মিলিয়ে নিজের নাতনি র নামকরন করেছে।শর্মিলা কে হারিয়ে যেতে দেয়নি সৌমেনদা নিজের জীবন থেকে। সৌমেন দা কথা বলার অবস্থায় নেই।
তুমি কি আমাকে চেনো শর্মিলা বলল।তখন মেয়েটি বলে হ্যাঁ আমি আপনাকে চিনি। শর্মিলা অবাক হয় তুমি আমাকে কিভাবে চিনলে ?বলল বাবার কাছে আপনার নাম অনেকবার শুনেছি বাবা যখন ঠিক করেছিলেন আমার সাথে তার ছেলের বিয়ে দেবেন তখন আপনার গল্প আমাকে শুনিয়ে ছিলেন।অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও আপনার যে বই বেরিয়েছে আমি বাবাকে কিনে দিতাম। আপনার সব বই বাবা পড়েছেন।
শর্মিলা বাকরুদ্ধ হয় সৌমেন দা তাকে মনে রেখেছে এত দূরে থেকেও তাকে ভোলেনি ।চোখে জল এসে যায়। শর্মিলার মাথায় হাত রাখে। শিশুর মত ঘুমাচ্ছে সৌমেন দা।চোখ মেলে তাকানোর ও ক্ষমতা নেই। শুধু হয়ত শর্মিলার স্পর্শ অনুভব করেছে।
শর্মিলা রীনাকে জিজ্ঞাসা করে ওনার স্ত্রী কোথায়? মেয়েটি বলে তার স্বামীর জন্মের সময়ই মারা গেছেন তার শাশুড়ি।
সমস্ত গাছ নদী মাঠ ঘর হাওয়া বেগে পিছনে সরে যাচ্ছে ।
আর কয়েক ঘন্টার মধ্যে শর্মিলা কলকাতায় পৌঁছাবে।
তার ঘর সংসার সেখানে আছে ,তার সব চেয়ে প্রিয় বন্ধু সবচেয়ে কাছের মানুষ তুষার।
পৃথিবীতে মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী কিন্তু সম্পর্কগুলোকে ভালোবাসা কখনো মরে না। অনেকেই জানবে এবার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য টা।যেটা সে লুকিয়ে রেখেছে। তুষার কে সবটা বলবে সে এবার।
বুকের ভিতর হালকা হতে চায় সে এবার।
এটা লুকানোর কথা নয় সবাইকে ডেকে বলার কথা নয় ।
এক কারিগর এক মহান শিল্পী নিজের হৃদয়ের সবটুকু রঙ গান হাসি বাতাসে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছিল এক মূর্তিতে।
তার সৃষ্টি র নাম শর্মিলা। আজ শর্মিলা তার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছে।
সৌমেন দা ভালবেসেছিল তাকে__ মাটি যেভাবে ফুলকে ভালোবাসে ,মেঘ যেভাবে বৃষ্টিকে ভালোবাসে .... পাহাড় যেভাবে নদীকে ভালোবাসা..... স্রষ্টা যেভাবে সৃষ্টি কে ভালোবাসে..... সে ভাবেই নিজের চেয়েও বেশি ভালোবেসে ছিলো। শুধু তার অনিশ্চিত জীবনের সাথে শর্মিলার জীবন কে জুড়তে চায়নি।শর্মিলা খুঁজে পেয়েছে তার জীবনের পূর্ণতা। বেঁচে থাকতে পারবে সে ভালোবাসার জন্য একবুকভালোবাসা নিয়ে।l

0 মন্তব্যসমূহ