মেঘদূত সাহিত্য পত্রিকা

বিশ্ব বঙ্গীয় সাহিত্য কলা আকাদেমি অধিভুক্ত পত্রিকা

শনি রবির কবিতা বাসর,কবিতা








ছাইদানি

সৌম্যদীপ পাল


নতুন একটা ছাইদানি এসেছে ঘরে, বেশ চকচকে শৌখিন

পালিশের গন্ধে রূপের জৌলুস তার সর্বাঙ্গে তখন

মনের কোণায় হাজার স্বপ্নের হাতছানি।

বদলির চাকরি, এ হাত সে হাত

এখন মালিকের হাতে তার যৌবন উজাড় করার পালা

অথচ পথে বেরিয়েছে কোনও অজানার সন্ধানে,

ধারণা নেই কি তার জীবনের হেতু, জন্মানোর গুরুত্ব।

তাই আকাশে দেখেছে একটানা উজাড় করা ভালোবাসা

পাখি দেখেছে মুক্তির আনন্দে, বৃষ্টি দেখেছে নতুন করে বাঁচবে বলে।

সম্পৃক্ত যৌবন, বাঁধভাঙা উদ্দামতা

আগুনের সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক

বুকে টেনে নিয়েছিল তাই চিতাভস্ম, জ্বলন্ত কাঠিতে শরীরে গেঁথেছিল মন্থনের বিষ।

থেঁতলে যাওয়া পোড়া হাড়ের সাথে কখনও সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা, মরা শরীরের সাথে আলাপন। 

শেষ ঠোঁটে ছুঁয়ে যাওয়া নিকোটিনে

আধপোড়া জীবনের ভালোবাসা খোঁজা!

 

নাহ্! তবু প্রতিবাদ সে কোনদিনও করেনি

ছাইচাপা আগুনে প্রতিবাদ কবে মরে গেছে,

মরে গেছে উপবাসী স্বপ্নেরা সেই ছাইয়ের গাদায়!

শৌখিনতায় লেগেছে পোড়া দাগের ক্ষত।

অথচ গোটা সভ্যতার ইতিহাসকে বহন করে গেছে

লাশেদের ভীড়ে, বিবর্তনকে সামনে রেখে।

 

অবশেষ

উৎসবের আকাশ স্তব্ধ, চঞ্চল মেঘেরা জোটবদ্ধ

আকাশ জুড়ে চড়চড় করছে নিম্নচাপের কালশিটে

হঠাৎ বৃষ্টি, যেন স্থবিরতার অসহায়তা!

যেন একটু বেঁচে থাকার আর্জি...

যন্ত্র মানব তখনও বোঝেনি অকাল শ্রাবণ

বোবা মেঘের ভাষা বোঝে, এমন সাধ্যি কার!

 

তাই বিতৃষ্ণায় পদপৃষ্ঠ হয়েছে আর্তের কান্না

জীবাণুর মুখোশ মিশে গেছে, কামমক্ত নগ্নতার নাগপাশে

দলিত মর্দিত ঘাসেরা

আড়াল থেকে বলেছে, 'নারী ভোগ্য পণ্য'

 

দেখি বেআব্রু জননী জন্মভূমি

দেখি শান্তির মশাল জ্বালে নির্যাতিত দেশের সৈনিকেরা

ততক্ষণে চিতায় শুয়ে পড়েছে দেবশিশু

মশালের আগুন যখন স্পর্শ করেছে শরীরের মণি-মাণিক্য

তখন মন্দিরে মন্দিরে শঙ্খ বেজেছে, ঢাক বেজেছে পূজার বেদীতে।

আজ মহাষষ্ঠী, দেবীর বোধন

অধিবাসের আঙিনায় ভেসে এসেছে হরিধ্বনি

সন্ধ্যার শ্মশানে নিঃশব্দে পুড়েছে বিকৃত একটা যোনি।



মেঘদূত সাহিত্য পত্রিকা একটি প্রয়াস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ