ড.মহীতোষ গায়েন
অধ্যাপক, সিটি কলেজ
১০২/১ রাজা রামমোহন সরণি,
আমহার্স্ট স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০৯
নিবাস-৪৩ দক্ষিণ কোদালিয়া,
সত্যেন বসু সরণি, পোঃ নবব্যারাকপুর,কলকাতা-১৩১
পরিচিতিঃ
মহীতোষ গায়েন,বাংলা কবিতার জগতে নব্বই দশকের এক উজ্জ্বল প্রতিভা। উওর ২৪ পরগনার এক শিক্ষক পরিবারে ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে জন্ম। বর্তমানে সিটি কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮২ থেকেই লেখালেখির সাথে যুক্ত।বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বহু কবিতা প্রকাশিত হয়েছে এবং সেই ধারা অব্যাহত। ৩টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত,১টি প্রকাশের অপেক্ষায়। এছাড়া ৩টি গ্রন্থ প্রকাশিত, দুইটি প্রকাশের অপেক্ষায়। ২০১৫তে নতুন বাংলা ও ২০১৮তে চান্দ্রভাষ পুরস্কার পেয়েছেন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বহু সাহিত্য পত্রিকায় ও গ্রুপে নিয়মিত লিখে সম্মাননা সনদ বহু পেয়ে চলেছেন। বিভিন্ন পত্রিকায় সম্প্রতি ছোট গল্প লিখছেন। তিনি একজন প্রাবন্ধিক,বাচিক ও নাট্য শিল্পী। আমজনতার সুখ ও সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখেন। মহীতোষ তাঁর পূর্বসুরী দেশি ও বিদেশি স্ট্রেইট পোয়েট্রি লিখিয়েদের থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। মানব সভ্যতা-সংস্কৃতি ও বিবেক-মনুষ্যত্বহীন মানব-মনের অন্তর্গত অন্ধকার-সংকট, ধর্ম ও রাজনীতির অন্ধকার নৃশংস জিঘাংসা জটিল রণরক্তময় দেশীয় আন্তর্জাতিক জীবন-বাস্তবের অভ্যন্তরীণ অংসগতি-ভোগ ও স্বার্থসর্বস্বতা তার রৌদ্রিল উচ্চারণে বিবেকী তীব্র অভিঘাত-দীর্ণতায় উজ্জ্বল হয়ে প্রকাশ পায় তার প্রতিটি কবিতায়।
প্রত্যাশা
বহুদিন তোমার হাত ধরিনি
চিবুক ছুঁইনি,কথা কাটাকাটি
করিনি,বহুদিন তোমার গন্ধ
নিইনি,এক বিছানায় শুইনি।
আর ঠিক এই অবসরে হানাদার
উগ্রপন্থীরা তোমার জমি দখল
নিয়েছে,তোমার বাগানে এখন
ফুল ফোটেনা,শুধুই বারুদের গন্ধ।
নিষিদ্ধ অস্ত্র নিয়ে তুমি জিরো
পয়েন্টে ঘুরে বেড়াচ্ছো,প্রশাসন
থেকে সতর্ক করা হচ্ছে বারবার
এর মধ্যেই চলছে,গুগল,টুইটার।
আমার মাথায় এখন সীমান্ত সন্ত্রাস
নিষিদ্ধ টিকটক,করোনা ভ্যাকসিন,
সুশান্ত- রিয়া মাদক কাণ্ড,অনলাইন
ক্লাস,কবিতা ছাপানোর অন্ধ প্রয়াস।
তোমার প্রেম ভোকাট্টা,তোমার ছন্দ
তাল ভেসে যাচ্ছে শেয়ার মার্কেটে...
আর আমি কবিতার মদ আকণ্ঠ গিলে
মাতালের মত ঘুরছি সুখ কিনবো বলে।
আমি গোপন অবসরে কবিতা লিখছি
অনলাইনে,শুকনো মুড়ি চিবুচ্ছি,আর
সোনালী দিনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছি
মুক্তি ও সম্প্রীতির মাঙ্গলিক প্রত্যাশার।
প্রকৃত মানুষ
পঞ্চাশ বছর হয়ে গেল
ফেলে আসা ফুল,পাখি, লতাপাতার
সঙ্গে আর দেখা হয় না
জানি না তারা কেমন আছে সব!
প্রকৃত মানুষ চিনতে হলে
কত বছর লাগে জানি না,
পঞ্চাশ বছর হয়ে গেল;প্রিয় নারী
চিনতে পারলো না তার প্রকৃত মানুষ।
প্রকৃত মানুষ হতে গেলে
বৃষ্টি হতে হয়,মেঘ হতে হয়,রৌদ্র হতে হয়,
বৃক্ষ হতে হয়,পাখি, লতাপাতা সব হতে হয়,
প্রাকৃত সারসও হতে হয় মাঝেমধ্যে।
এই সময় এই মধুমাস,এই বৃষ্টিবিধৌত পথ
নি:সঙ্গ রাত; আর কত হাঁটতে হবে
অম্লান নক্ষত্রালোকে !
প্রকৃত মানুষ হতে
গেলে শরীর ও মনের পবিত্রতা খুব জরুরি।
*মেঘদূত সাহিত্য পত্রিকা একটি প্রয়াস*

0 মন্তব্যসমূহ