মেঘদূত সাহিত্য পত্রিকা

বিশ্ব বঙ্গীয় সাহিত্য কলা আকাদেমি অধিভুক্ত পত্রিকা

সম্পর্কে'র সমীকরণ/ সাঁজবাতি

 

 সম্পর্কে' সমীকরণ/ সাঁজবাতি

রোজ দুপুরবেলা মেয়েকে খায়িয়ে নিজে খাওয়া-দাওয়া সেরে  গান নিয়ে রেওয়াজ করার অভ্যাস টা ছিল তিস্তার রোজকার রুটিন...

জীবনের একটা সময় গানই ছিল তার  সবথেকে প্রিয় বন্ধু... তাই সেই অভ্যাসটা এতটা বয়স পেরিয়ে এসে আজও ত্যাগ করতে পারেনি

 সকাল থেকে উঠে সারাদিনের প্রচুর ব্যস্ততা থাকে তার রান্না করা ,ঠাকুর পূজা করা, গৃহস্থলীর কাজকর্ম এসবের মধ্যে দিয়ে সারাদিনটা কেটে যায়

 একমাত্র মেয়েকে সকালবেলা ঘুম থেকে তোলা, তাকে টিফিন করানো, স্কুলে পাঠানো, পড়তে বসানো,সব কাজের মধ্যে দিয়ে নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলেছে ভীষণভাবে

 স্বামীর অফিসের টিফিন,রোজকার ছোটাছুটি এর মধ্যে থেকেই জীবনের বেশিরভাগ সময়টা কেটে গেছে

 তবে যেহেতু স্বনির্ভরতা য় বিশ্বাসী সে, তাই দুটো টিউশনি করে হাত খরচ চালানোর জন্য

 কিশোরী বয়স থেকেই মাথার উপরে তুলে নিয়েছিল সংসারের টুকিটাকি দায়িত্ব বাবা মার একমাত্র মেয়ে ছিল সে ... ভীষন আদরের কিন্তু  মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার সময় জীবনের সবথেকে বড় পরীক্ষা তাকে দিতে হয়েছিল  ঘটে গেছিল তার জীবনের সব থেকে বড় বিপর্যয় টা

 তার বাবা হঠাৎই চলে গেলেন পৃথিবীর ছেড়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে  পড়ে রইল তার মা আর সেই ছোট্ট মেয়ে তিস্তা

সেদিন থেকেই সে মনে করেছিল,ছেলের অভাবটা মাকে কোনদিনও বুঝতে দেবে না

ছোটবেলা থেকেই স্বনির্ভরতায়  ভীষণভাবে বিশ্বাস করতো সে

 একটা মেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো,নিজে রোজগার করাটা ভীষণভাবে প্রয়োজন... এই concept তার ভীষনভাবে বিশ্বাসী

 চেষ্টা করত টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচা চালাতে সংসারের টুকিটাকি  যতটুকু সুবিধা করা যায় গান ছিল তার জীবনভারী মিষ্টি গলা ছিল তার

 বাবা সরকারি চাকরি করতেন ,তিনি চলে যাওয়ায়,তাই সেই কাজটা তার মা পেয়ে যায়

 দুজনে মিলেমিশে বেশ ভালই  সংসারটা চলছিল

 Graduation কমপ্লিট করল তিস্তা

 তিস্তা ছিল সুন্দরী ,ঘরোয়া,শিক্ষিতা

কিশোরী বয়স থেকেই তার প্রচুর সম্বন্ধ আসতে শুরু করে কিন্তু সে ঠিক করেই নিয়েছিল  ,কখনো বিয়ে করবে না হঠাৎ তার একটা সন্মন্ধ এলছেলে ব্যাংকে চাকরি করেমোটা টাকা মাইনেভালো ঘর ,তাই তার মা সম্বন্ধটা কিছুতেই হাতছাড়া করতে চায়নি

 তিস্তা রাজি ছিল না ,প্রস্তুত ছিলনা তখন বিয়ে করতে কিন্তু মায়ের জোরাজুরিতে একইরকমভাবে জোর করেই রাজি হতে হয়েছিল

 তার ইচ্ছে ছিল সে আরো অনেকটা পর্যন্ত পড়াশোনা করবেগান নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার করবে

মা বুঝিয়েছিল পড়াশোনা করার সময় কি চলে গেছে__ বিয়ের পরেও তো পড়াশোনা করা যায়...গান গাওয়া যায় ছেলের বাড়ি থেকে এইরকমই কিছু বলেছিল __যে বিয়ের পরে সমস্ত রকম পড়াশুনাও গান ইত্যাদি দায়-দায়িত্ব সব তাদের

 বাড়িতে একটা মাত্র ছেলের বউ মাথায় করে রাখবে

 তাই একরকম জোরাজুরি করেই মেয়েকে রাজি করিয়ে ফেললেন বিয়ের জন্য মায়ের মুখের উপর না করতে পেরে  ,সে রাজি হয়ে গেল বিয়ের জন্য কিন্তু মন যেন কোথাও একটা সায় দিল না

আজ পনেরোটা বছর পেরিয়ে গেছে অতীতের কথা মনে পড়লে কষ্ট হয় স্বপ্নগুলো ধুলিসাৎ হয়েগেছে ইচ্ছে ছিলো গান গেয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজের একটা পরিচয় গড়ে তুলবে কিন্তু নিয়তির বেড়াজালে পড়ে কিছু সম্ভব হয়ে ওঠেনি

 বিয়ের আগে পড়াশোনা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া মানুষ গুলো কেমন যেন বিয়ের পর বদলে যায় মাথায় চাপিয়ে দেয় দায়িত্বের বোঝাঅন্য বাড়ি থেকে আসা মেয়েটা যে একটা মন আছে,সেটা তারা বেমালুম ভুলে যায়তখন মেনে নেওয়া আর মানিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কিছু উপায় থাকেনাতিস্তা বাধ্য হয়ে মেনে নিল সবটাই স্বামীর যে সাপোর্ট সব মেয়েরাই আশা করে, সেটাও সে পায়নি সেই ব্যাক্তির মা,বাবা যা যা বলেছে সে তাদের সাথে সহমত জানিয়েছে

যাইহোক শ্বশুর, শাশুড়ি গত হয়েছেন দুই বছর হয়েছে কিন্তু তবুও স্বামীর সাপোর্ট, ভরসা সেভাবে কোনোটাই সে পায়নি কোনদিনসেই আন্তরিকতা বা ভালোবাসার টান অনুভব করেনি কখনও,যেটা প্রত্যেকটা মেয়ে চায়

এসব দুঃখ যন্ত্রনা  প্রায় ভুলেই গেছিল তিস্তা ছোট্ট মেয়েকে বড় করতে করতে কেটে যাচ্ছিল তার জীবনটা বেশ নিজের স্বত্বা, পারদর্শিতা কে একেবারেই বিসর্জন দিয়ে দিয়েছিলসে শুধু কারো মা আর কারো স্ত্রী  ছিল ব্যাস এতটুকু পরিচয় যথেষ্ট ছিল তার সমাজের চোখে

আফশোস করার সময়টুকু ছিল না তার শুধু মাঝেমধ্যে মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে জানালার বাইরে থেকে যখন আকাশ টা দেখত, তখন বুকের ভিতরে মোচড় দিয়ে উঠত না পাওয়া যন্ত্রনাগুলোদুফোঁটা চোখের জল ফেলতে না ফেলতে মেয়ে উঠে পড়লে সাথে সাথে চোখ মুছে ফেলততার যন্ত্রনাগুলো তার বড্ড একান্ত,সে চায়না তার ভাগ কাউকে দিতে

 কিছু দিন পর একদিন ভোরবেলা হঠাৎ করে একটা ফোন এল

 ফোনের ওপারে মায়ের ধরা ধরা গলা___খুব শরীর খারাপযদি একবার আসতে পারিস দীর্ঘ পনেরো বছরের মধ্যে তেমন একটা মা কে দেখতে যাওয়ারও অনুমতি ছিল না তারবছরে নিয়ম করে দুবারযে মা তার গোটা জগৎ জুড়ে ছিল, তার থেকেও তাকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল সংসারের অজুহাতে

 সেদিন মায়ের শরীর খারাপ শুনে আর নিজেকে আটকে রাখতে পারল না স্বামীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে সবটা বলল কিন্তু তাতে রজতের কোন হেল দোল সে দেখলনা, বরং বলল তুমি গিয়ে বা কি করবে? ডাঃকে ফোন করে দাওআর দেখাশোনা করার জন্য তো একজন রাখাই আছে

 তিস্তা কথাটা মেনে নিতে পারলো না। প্রচন্ড রকম ভাবে ঠিক করে নিল যে যা হবার হবে,কেউ তাকে এবার আটকাতে পারবেনা অনেক হয়েছেআর নাএকরকম অবাধ্য তার সুরেই বলল রজতের মুখের উপর __আমি যাব। রজত কিছুক্ষন মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল তারপর বলল যা ইচ্ছে কর

 রজত অফিসে বেড়িয়ে গেলে মেয়েকে নিয়ে চলে বাগবাজারে মায়ের কাছেসারাটা রাস্তা আসতে আসতে ভেবেছে ,সে আজ বোধহয় ঠিক কাজই করেছে এতদিন যা করেছে তার সবইটা ভুল করে এসেছেঅন্যায় সহ্য করাটাও একরকম অন্যায় করা এতদিন রজতের সব অন্যায় সহ্য করে এসেছে

যাইহোক বাড়ি পৌঁছে ছুটে যায় মায়ের কাছে মায়ের ভীষন জ্বর তিনদিন ধরে। তাকে দেখাশোনা জন্য যাকে রেখেছিল মিনতি মাসি সেও আসেনি তখনও। মাকে জড়িয়ে ধরে সে কেঁদে ফেলেমা জিগ্গেস করে কেমন আছিস?নিরূওর থাকে সেগায়ে বেদম জ্বর কাছাকাছি ডাক্তার কাউকে চেনা নেই তারএর মধ্যে মিনতি মাসি  চলে আসে। সে বলে__খাটের পাশে একটা ছোট ডাইরি আছেওখানে ডাঃ সেনের  নম্বর আছেকল করলে বাড়িতে এসে দেখে দেবেনখুব ভালো ডাক্তার

 তিস্তা নং ডায়েল  করে। ওপাশ থেকে ভেসে আসে একটা ভারী কন্ঠস্বরএমন স্বর মনে হল সে আর কোনদিন কখনও শোনেনি। সে একটু চুপ থেকে, ব্যস্ত হয়ে বলল সমস্ত ঘটনাবলি। ডাঃসেন, বললেন কিছুক্ষনের মধ্যেই আসছেন আচ্ছা বলে ফোনটা রেখে দেয় তিস্তা

 প্রায় আধঘন্টা পর দরজায় বেলের শব্দ। তিস্তা ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দিলো ধবধবে সাদা পোশাকে,হাতে এটার্জি, গলায় স্টেথোস্কোপ __একজন সুপুরুষ ব্যাক্তিইনিই ডাক্তারবাবু তাড়াতাড়ি করে ঘরে নিয়ে এল_প্রায় ছেলেমানুষের মতই বলল__ দেখুন না মায়ের কি হয়েছে? কিছুতেই জ্বরটা সারছে নাডাঃ সেন একটু মুচকি হেসে ভালো করে দেখে বললেন, ভয়ের কিছু নেই। ভাইরাল ফিভারসেরে যাবেএটা শুনে তিস্তা একটু আসস্ত হল আবার কিছুটা ছেলে মানুষী হয়ে বলে ফেলল আমি যে কি ভয় পেয়ে গেছিলাম কি বলব? উনি কোন উত্তর না দিয়ে বললেন কিছু টেষ্ট লিখে দিলামকরিয়ে কাল একবার দেখিয়ে নেবেন

 এই বলে যথারীতি ডাক্তারবাবু বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে

পরের দিন মা অনেকটাই সুস্থ বোধ করলেন

সকালবেলা মায়ের টেস্টগুলো করিয়ে রিপোর্ট আসলে বিকেলে ডাক্তারের কাছে গেল তিস্তা রিপোর্টগুলো নিয়ে

বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে ডাক্তারের চেম্বার

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরে ভিতরে গেল তিস্তা

বলল ডাক্তার বাবু আসবোযথারীতি ডাক্তারবাবু বললেন হ্যাঁ আসুন

টেস্ট গুলো করিয়েছেন ?কি আশ্চর্য টেস্টগুলো যে উনি করাতে বলেছিলেন সেটা উনি মনে রেখে দিয়েছেন__ কিছুটা আশ্চর্য হল তিস্তা। হয়ত মনে আছে ওনারহতে পারে

 সাধরণত  ডাক্তাররা তো বিভিন্ন রোগী দেখে থাকে কাকে কি টেস্ট করতে দিয়েছে ,সেটা মনে করে রাখার তো কথা নয় একটু আশ্চর্যই হয়ে ছিল যাইহোক , টেস্টের রিপোর্ট গুলো বার করে ডাক্তার বাবুর হাতে দিল

টেস্ট রিপোর্ট গুলো দেখে ডাক্তারবাবু বললেন তেমন কিছু হয় নি সাধারন ভাইরাল ফিভার তিস্তা একটু আস্বস্ত হলো বলতে বলতে ডাক্তারবাবু হঠাৎই তিস্তাকে জিজ্ঞাসা করলেন __আপনার..... আপনার বাড়ি কোথায় ?আপনি কি করেন এখন? আপনি কি হাউস ওয়াইফ ?অবাঞ্ছিত প্রশ্ন করতে দেখে কিছুটা অবাক হয়েছিল তিস্তাঘাড় নেড়ে একরকম জবাব দিল হ্যাঁ কিন্তু একজন অপরিচিত মানুষকে ধরনের প্রশ্ন একমাত্র তারাই করতে পারে যারা পূর্বপরিচিত

সেজন্য কিছুটা অবাক হয়েছিল সে যাইহোক সেদিন ওখান থেকে আসার পরে দুটো দিন ভালই কাটছিল ___মা সেরে উঠছে। এরমধ্যে তার স্বামী একবারও তাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা পর্যন্ত করেনি তার মায়ের শরীর কেমন আছে ?সেও মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিল কোনদিনও তার স্বামী ফোন না করলে সে যেচে কিছু জানাতে যাবেনা

অভিমান হয়েছিল তার খুব কিন্তু তার দাম কে দেবে?রাতে  খাওয়া দাওয়ার পর যখন শুতে যাবে দেখল হোয়াটসঅ্যাপে একটা টেক্সট__ ডক্টর সেনর নাম্বারটা সেভ করা ছিল এবং একবার হোয়াটসঅ্যাপে করেছিলেন যে কেমন আছে মা জানানোর জন্য সেখানে একটা টেক্সট দেখে  খুব অবাক হয়ে উঠল তিস্তা

সাধারণত ডাক্তাররা এই ধরনের কাজকর্ম করে থাকেন না। তারা যেচে কাউকে টেক্সট করে নিশ্চয়ই জিজ্ঞাসা করবে না যে পেশেন্ট কেমন আছেন__ তাই অবাক হয়ে কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে বসে ছিল তার পরে হাতে ফোনটা নিয়ে রিপ্লাই দিলো__ হ্যাঁ আগের থেকে অনেকটা ভালো আছে আধঘন্টা  পর আরেকটা টেক্সট এল__একটা কথা জিজ্ঞেস করবো? যদি কিছু মনে না করেন ___এবার তিস্তা রীতিমত অবাক হয়ে গেল। একজন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ডক্টর তাকে জিজ্ঞাসা করছে এভাবে, সে এটা বুঝতে পারল না যে কারণটা কি! তিস্তা বলল হ্যাঁ বলুন কি ব্যাপার? ওদিক থেকে রিপ্লাই এলো__ গানটা কি এখনো গাওয়া হয় ?না গানটা ছেড়ে দিয়েছেন? তিস্তা রীতিমত একটু অবাক হয়ে গেল। একসময় সে গান গাইতো বটে তবে অনেকদিন আগেকার ব্যাপার সেভাবে আর এখন কোথায় গান গাওয়া হয়? কিন্তু উনি কিভাবে জানলেন?   উনি কি তাকে আগে থেকে চিনতেন, নাকি অন্যকিছু ?বিভিন্ন রকম প্রশ্ন তার মাথায় ভিড় করতে থাকলো সহ্য না করতে পেরে জিজ্ঞাসাই করে ফেলল আপনি কি করে জানলেন যে আমি গান গাইতাম ?এরপরে ফোনের দিকে তাকিয়ে প্রায় একঘন্টা জাঁকিয়ে বসে রইল __কোন রিপ্লাই এলো না এক সময় ফোনটা রেখে সে ঘুমিয়ে পড়ল

সকালে ঘুম থেকে উঠে যথাযথ কালকে রাতের ব্যাপারটা ভুলেই গেছে ,চা খেতে বসে হঠাৎ করেই মাথায় নড়েচড়ে বসল __আরে কালকে রাতে আমাকে একটা টেক্সট করেছিলো ডাক্তার সেন এটার কারনটা খুব জানতে ইচ্ছে করলো মিনতি মাসি কে জিজ্ঞাসা করল আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞাসা করব ?এই ডাক্তার সেনের বাড়িটা কোথায় আমাকে বলতে পারবে ?না মানে উনি কোথায় থাকেন সেটা বলতে পারবেমিনতি মাসি বলল আরে ডক্টর সেন হত আমাদের পাশের পাড়ারই ছেলে  পাড়ার সবথেকে ভালো ছেলে তুমি জানতে না ওকে?  

সাগর সেনের যা ঠিকানা মাসি বলল_তা তাদের বাড়ি ছাড়িয়ে কিছুটা দুরেই, পাশের পাড়ায় ওনাদের বাড়ি কিন্তু কোনদিনও তো সেভাবে ওনাকে দেখা হয়নি অথবা সুযোগটাই হয়তো কোনদিনও পাই নি,কারণ বেশিরভাগ সময়  গান, পড়াশোনা এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকত বাইরের কে কোথায় কি করে বেড়াচ্ছে তা কোন দিকে সেভাবে  দেখার তার ঝোঁক ছিল না তার কাছে পরিস্কার হলো পুরো ব্যাপারটাযে উনি বোধহয় তিস্তাকে চিনতেন

পরের দিন রাতে আবার একটা টেক্সট এল _আপনি গানটা তো আবার শুরু করতে পারেনশুরু করছেন না কেন ?এবার তিস্তা একটুখানি কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করল__আপনি কি আমাকে চেনেন? রিপ্লাই এলো না কিছুক্ষন পরে আর একটা টেক্সট __সংসার করলে কি বুঝি গানটা ছেড়ে দিতে হয়? তিস্তা মনের সুপ্ত বাসনা টাকে যেন এক ঝটকায় জাগিয়ে দিয়ে গেল কেউ যেটাকে সেএতদিন বন্ধ করে রেখে দিয়েছিল মনের একটা কোনেকে যেন সেটার দরজাটা হাট করে খুলে দিয়ে গেল রিপ্লাই বলল __ওই আর কি আর হয়ে ওঠে না । এতোটুকুই উওর

এভাবে তিন চার দিন পর পর টেক্সট আসতে থাকে একটা কথাই গানটা শুরু করার জন্য প্রতিদিন রাতে বেলা টেক্সট না আসলে তিস্তা ছটফট করতে থাকে ,কারণ কোথাও না কোথাও তার মনের সুপ্ত বাসনা গুলো ছিল ,যে সুপ্ত বাসনা গুলো কেউ একজন মনে হয় জাগিয়ে দিচ্ছে প্রতিদিন

তাকে বলতো কিভাবে সে তার গানটাকে নিয়ে ভাববে ?কিভাবে গানটাকে নিয়ে ক্যারিয়ার করবে__ এসব __ওপারের মানুষ টা খুব করে চাইত যেন তিস্তা নিজেকে কোথাও হারিয়ে না ফেলে নিজের প্রতিভাকে যেন কোথাও হারিয়ে না ফেলে

 ইতিমধ্যেই তার মা সুস্থ হয়ে ওঠার পরে ,তিস্তার স্বামী রজতের  ফোন এল একদিনতাকে বাড়ি ফিরে আসার জন্য আদেশ জারি করা হল তার একা একা হাত পুড়িয়ে খেতে অসুবিধা হচ্ছে তাই মা কেমন আছেন কি বৃত্তান্ত সেসব জানার তার একটুও কোনো ইচ্ছে নেই

তিস্তা পরদিন ফিরে যায় বাড়িতে ফেরার আগে ভীষণভাবে ইচ্ছে ছিল ডক্টর সেনের সাথে একবার দেখা করে যাওয়ার কিন্তু হয়ে ওঠেনি কেন না জরুরী কাজে বাইরে চলে গেছিলেন যাবার আগে তিস্তাকে বলে গেছিলেন কিছুদিন থাকবেন না, কোন অসুবিধা হলে তাকে ফোন করে নিতে ,অথবা হোয়াটসঅ্যাপ করে নিতে তিস্তা বাড়ি ফিরল সবই আগের মতই রইলো ,কিন্তু কোথাও যেন তার সেই মনের যে বন্ধ দরজাটা খুলে গিয়েছিল ,সে দরজাটাকে সে আর বন্ধ করতে পারছিল না বারবার এসে দমকা হাওয়া তার মধ্যে ধাক্কা দিচ্ছিল মনের সুপ্ত বাসনা গুলোকে সত্যি করার জন্য, যে স্বপ্নগুলো সে এতদিন ধরে দেখে এসেছে ,সে স্বপ্ন গুলো যেন এক ঝটকায় সত্যি হতে দেখতে পাচ্ছিল রজতের কাছ থেকে সে যেটা যেটা আশা করেছিল সেটা সে কোনদিনও পাইনি কিন্তু একজন বাইরের মানুষ এসে  তাকে দু দিনের মধ্যে এমনভাবে মনের মধ্যে শক্তি যুগিয়েছে যে সেও স্বপ্ন দেখে যে , সে কিছু করতে পারবে কিছুতেই ভুলতে পারছে না তার স্বপ্ন গুলোকে

সত্যি হতে দেখতে পাচ্ছে গৃহস্থালির কাজ করছে ,সমস্ত কাজ__  কিন্তু তার মধ্যে থেকেও সে প্রতিক্ষন স্বপ্নগুলোকে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে যে স্বপ্নগুলো তাকে ডাক্তার সেন দেখিয়েছেন তার নিজের স্বপ্ন তার নিজের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। যা তার স্বামীর কাছ থেকে সে দেখতে চেয়েছিল তার স্বামী তার জন্য এতটা ভাবুক, এতটা চিন্তা করুক,কিন্তু সেই সাপোর্টটা সে কোনদিনও পাইনি । কিছুদিন বাদে একটা চিঠি এলো বাড়িতে অল ইন্ডিয়া মিউজিকাল কম্পিটিশনের একটা অডিশনের চিঠি তিস্তার নামে তিস্তার আনন্দের সীমা ছিল না সেদিন কিন্তু কে তার অডিশনে নামটা দিয়েছে সেটাই বুঝে উঠতে পারছিল না কিছুতেই অনেক ভাবল_ অনেক ভাবল কিছুতেই মাথায় আসছেনা আধঘণ্টার মধ্যে ডক্টর সেনের একটা টেক্সট এল__

সামনের সপ্তাহে অডিশন আছে, ভালো করে রেডি হয়ে নিন বিজয়ী কিন্তু হতেই হবে অজানা অচেনা একজন মানুষ  হয়ে দুদিনে তার কথা এতটা ভেবেছে কী করে ?তার মাথায় ঢুকলো না কিছুতেই একজন এত বড়মাপের ডাক্তার হয়ে,এত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হয়ে, তার মত সাধারণ একটা মেয়ের জন্য এতটা করছে কেন ?তার সম্পর্কে কতটাই বা জানেন? বিন্দুবিসর্গ কিছুই তো জানেনা । জানতে ইচ্ছা হলো কারণটা। সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলটা নিয়ে টেক্সট করলো আপনি আমার জন্য এতটা কেন ভেবেছেন? রিপ্লাই এলো __মানুষই তো মানুষের জন্য ভাববে ...পছন্দ না হলে যাবেন না । এরপর আর উত্তর দেওয়ার মতো কিছু রইল না বিকেলে রজত অফিস থেকে বাড়ি ফিরে এলে তাকে অডিশনের কথাটা তিস্তা বলে __নামটা উল্লেখ করেনি কার মারফত হয়েছে কিন্তু সেটা শোনার আগ্রহ দেখায়নি সে। একদমই উদাসীন ভালো-মন্দ কোন কিছু নেই । এসব আবার নতুন পাগলামি শুরু হয়েছে উওর দিল পনেরো টা বছর সংসারের দিয়েছে নিজের জন্য কিছু ভাবেনি যখন নিজের জন্য সে ভাবতে গেল একবার__তার স্বামীর কাছে পুরো ব্যাপারটা পাগলামি বলে মনে হল মনে মনে ঠিক করল __ঠিক আছে পাগলামি নাহয় করলাম কাজের মাঝে মাঝে  অবসর সময় একটু রেওয়াজটা নিয়ে বসত দিন সামনে এলো___ অডিশনে গেল খুব ভালো হয়েছে । অডিশনে সিলেক্ট হয়ে গেছে তিস্তা

গেট থেকে বেরিয়ে কাউকে একটা খুঁজে ছিল সামনে এসে দেখল ,সাদা গাড়ি থেকে নেমে এলো ডক্টর সেন দৌড়ে গেল তিস্তা আনন্দের সঙ্গে বলল, আমি সিলেক্ট হয়ে গেছি__ কিন্তু এই জায়গায় তো রজতের থাকার কথা তার দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল উনি তো কেউ হয়না তিস্তার কি সম্পর্ক ওদের? কোনো সম্পর্কই নেই তাহলে তিস্তার প্রতি কিসের এত টান? এমনি  ভবিষ্যতের জন্য ঐরকম একটা সুযোগ করে দিলেন একাধিক প্রশ্ন মনের মধ্যে আসতে থাকলো কংগ্রাচুলেশন বলে হঠাৎই বেরিয়ে গেল ডক্টর সেন তিস্তা কিছুক্ষন পথে চেয়ে থাকল তারপরে ভাবলো __ মাকে অনেকদিন দেখিনি একবার দেখে তারপরে বাড়ি ফিরবে

রাস্তায় যেতে যেতে হঠাৎ করে পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকানটা চোখে পড়ে ,পাশে ডক্টর সেন এর বাড়ি মিনতি মাসির ঠিকানা অনুযায়ী আন্দাজ করে সে

মনের মধ্যে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খায় তার__ কিছুতো একটা ব্যাপার আছে , কেউ কারো জন্য এতটা কি করে ভাবতে পারে? সে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারল না এমন সময় হঠাৎই তার ছোটবেলাকার এক বান্ধবীর সঙ্গে তার দেখা হয়ে গেল হঠাৎ করে এই কথা কথায় ডক্টর সেনের প্রসঙ্গটা এলো বান্ধবী বলল সাগরদা কে মনে আছে তোর? কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো তিস্তা সাগর দাসাগরদা কে ভুলে গেছিস? কলেজে যখন পড়তো দু-একবার নামটা শুনে ছিল অনেকটাই সিনিয়র ছিল ওদের থেকে বান্ধবীটি বলল আরে সাগর সেন__ এই যে , যার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিস, এটাতো ডঃ সাগর সেনের বাড়ি  বান্ধবীটি বলল জানিস ছোট্টবেলা থেকে সাগরদা একজনকে ভালবাসত কিন্তু তাকে কখনো বলতে পারেনি তাই বিয়েটা আজও করে উঠতে পারেনি তিস্তা অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করল কে মেয়েটি জানিস? বান্ধবী টি বলল না সেভাবে নয় তবে শুনেছি দাদার মুখে __ হ্যাঁ মেয়েটা ভালো গান করতব্যাস এতটুকুই বলেছে তিস্তার কাছে সবকিছু যেন কিছুটা পরিষ্কার হয়ে গেল হাজার টা প্রশ্ন এল মনের ভিতর খুব আবছা একটা মুখ ভেসে এলো ,যে মুখটা এখনকার সাগর সেনের সাথে ঠিক সেভাবে মেলেনা

বান্ধবীর দাদা আর সাগরদা দুজন বন্ধু ছিল দুজনেই ডাক্তার দাদার থেকেই বান্ধবীও জেনেছে সবকিছুকোনদিনও জানানোর সুযোগ পায়নি, সুযোগ পেলেও হয়তো সময়টা খুব তাড়াতাড়ি চলে গেছিল হাজার একটা প্রশ্ন তিস্তা মনকে ঘিরে ধরলো

তিস্তা মনে একটাই প্রশ্ন থাকে ,একটা মেয়ের জন্য সারাটা জীবন নষ্ট করে দেওয়ার কোন মানে আছে? এটাই বোধহয় ভালোবসা বান্ধবীর কথা শুনে তার মাথার ওপরে পুরো আকাশটা যেন ঘুরতে থাকে, পায়ের তলার মাটি সরে যায়মেয়েটি সে নয়তো? এমন একটা ভালোবাসার মানুষ কি তার কোথাও ছিল?সে কি সেই ভাগ্যবতী মেয়েটি? কিন্তু যে সংসারে সে বাস করছে , সেখানে সেই ভালোবাসা টা সে পায়নি, তার জীবনের এতটা সময় সে যেখানে অতিবাহিত করেছে খুব আফসোস হচ্ছিল কেন আফসোস হচ্ছিল ,সে নিজেও বুঝতে পারছিল না কান্না পাচ্ছিল গলাটা ধরে আসছিল বান্ধবীকে বলল আসিরে পরে কথা বলব

বাড়ি না ঢুকে একটা পার্কে গিয়ে কিছুক্ষণ বসলো পুকুরের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষন হঠাৎই একটা টেক্সট এল বাড়ি পৌঁছে গেছেন ডক্টর সেন____এর খুব রাগ হলো তিস্তার  তার উপর কেন কিছু বছর আগে তাকে বলে উঠতে পারেনি সে ?যাকে ভালোবাসে যদি বলে না উঠতে পারে ,তবে আজ কেন এতটা চেষ্টা তার জন্য করছে ?আজ তার হাতে কিচ্ছু করার নেই সে দায়বদ্ধ সংসারের কাছে কেন ডক্টর সেন নিজের জীবনটাকে নষ্ট করে দিলেন এভাবে একটা মেয়ের জন্য ....বিভিন্ন রকম প্রশ্ন  মনের মধ্যে চলতে থাকে কিছুক্ষণের মধ্যে রিপ্লাই না আসার ফলে কল ব্যাক করেন ডঃ সেন কখনো করেননি সেভাবে ফোনটা রিসিভ করল  তিস্তা। ধরা ধরা গলায় বলল কি হয়েছে বলুন ?ডঃ সেন বলল বাড়ি ফেরেন নি এখনও ?উওর দিল না। একটু কাজ আছে কাজ সেরে বাড়ি ফিরব একটুর জন্যও বুঝতে দেয়নি যে, সে সব টা জেনে গেছে উত্তর এল ঠিক আছে ,সাবধানে ফিরবেন। অবাক হয়ে যায় তিস্তা, কোন দাবি ছাড়া ,স্বার্থ ছাড়া ,কি করে একটা মানুষ একটা মানুষের জন্য এভাবে সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারে শুধুমাত্র তাকে ভালোবসে? এমনকি ভালোবাসা কথাটা বলার সাহস পর্যন্ত সে কখনো করে উঠতে পারেনি যদি প্রত্যাখ্যাত হয় সেই ভয়ে ,নাকি অন্য কিছু? রাগ,অভিমান,দুঃখ ঠিক কোন অনুভূতিটা যে তখন হচ্ছিলতার মনে, সে মেলাতে পারছিল না

তিস্তা বাড়ি ফিরল, দেখল রজত এসে বাড়িতে বসে রয়েছে ঢুকতেই একরাশ কটুক্তি করে বললো__ নাচাগানা কমপ্লিট হল ? তিস্তা সাফল্যটা তার কাছে নাচাগানা ছিল কোন উত্তর করল না তিস্তা জামা কাপড় ছেড়ে পরিষ্কার হয়ে, রান্নাঘরে গেল রান্না করলো তিস্তা দু'চোখের পাতা এক করতে পারেনি সেদিনকি একটা পাওয়া যেন তার হলো না জীবনেকি যেন জীবন থেকে তার হারিয়ে গেল সে যে রকম জীবনটা চেয়েছিল সেটাও তো হতে পারতো চুপ থেকে দুফোঁটা জল গড়িয়ে পরলো চোখ থেকেএকসময় ঘুমিয়ে পড়ল সে কিছুদিন বাদে গানের ফাইনাল অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাবে সাগরদা বলেছে যেন উইনার হয় তিস্তাসমস্ত প্রতিকুল পরিস্থিতি তেও তিস্তা রেওয়াজ চালিয়ে যায় কিন্তু মনটা যেন তার কাছে ছিল নাফোনটার দিকে তাকিয়ে অপেক্ষায় বসে থাকতো যদি একটা টেক্সট আসে, যদি কেউ একবার খবর নেয় , মনে হতো এটা কি অন্যায়? সেকি ভুল করছে? তখন নিজের মনকে  সে বুঝাত না ভুল কিছু করেনি সে ভুল হচ্ছে সেটা যেটা এতদিন তার সাথে হয়ে এসেছে অনুষ্ঠানের দিন যত সামনে ঘনিয়ে এলো রজতের খারাপ ব্যবহারগুলো দিন দিন যেন আরও বৃদ্ধি পেতে লাগল

মনে হল যেন তিস্তা যদি কোনো কারণে কম্পিটিশন টা জিতে যায় তাকে মনে হয় আর রজত নিজের আয়ত্তের মধ্যে রাখতে পারবেনা সে নিজে প্রতিষ্ঠিত হলে তখন রজতের ধরাছোঁয়ার মধ্যে  আর থাকবে না এটা মনে হয় রজতকে তাড়া করে বেড়াত তাই বিভিন্ন রকম ভাবে চেষ্টা করব যাতে তিস্তা কিছুতেই না গানটা চালিয়ে যেতে পারে। তিস্তা অনড় ,সে যতই কষ্ট হোক, সে তার স্বপ্ন পূরণ করবেই

সেই বিশেষ এই দিনটি এলো । একটু ভয় করছিল তারএত বড় প্রোগ্রাম এসে কোনদিনও এর আগে পার্টিসিপেট করেনি। রজত কে বলেছিল তার প্রগ্রামে আসার জন্য কিন্তু সে সরাসরি না করে দিয়েছে সে এসব  ন্যাকামো তে থাকতে পারবে না। একাই গেল তিস্তা  কিছুটা ভয়ও লাগছিল তার। গ্রিনরুমে যখন মেকাপ করছে তখন একজন এসে বলল__আপনার সাথে একজন দেখা করতে চায়শুনে মনটা আনন্দে ভরে উঠলো সে বুঝতে পারল কে আসতে পারে?

মনে মনে এটাও ভাবলো, এত বড় ব্যক্তিত্ব হয়েও, কি করে একটা সাধারণ মেয়ের জন্য সে এতটা করতে পারে?সব কাজ ফেলে তার জন্য ছুটে এসেছে একজন মেয়েটার কাছ থেকে তার কোনো দাবি নেই কোন চাহিদা নেই শুধু একটা মানুষকে ভালোবেসে  সারাটা জীবন তার নামে অতিবাহিত করে দেওয়া যায়? সে কি মানুষ না দেবতা? এই উত্তরটা অনেকবার খোঁজার চেষ্টা করেছে তিস্তা কিন্তু পাইনি ছুটে গ্রীন রুম থেকে বেরিয়ে বাইরে এসে দেখল হ্যাঁ সত্যি সাগরদা দাঁড়িয়ে আছে মনে একটু বল পেল বলল আপনি এসেছেন__ সাগর সেন বড় মাপের ডক্টর অনেক নামডাক এত ব্যস্ততার মধ্যেও সাধারণ একটা মেয়ের জন্য তার এতটা সময় অতিবাহিত করছেন। সাগর সেন এসে বলল আপনার প্রোগ্রাম, আর আমি আসবো না ?বেস্ট অফ লাক খুব ভালো করে গানটা গাইবেন আর একটুও ভয় পাবেন না কথাটা বোধহয় রজতের কাছ থেকে আশা করেছিল তিস্তা কিন্তু পাইনি সাধারণত ভুল মানুষকে দাম দিতে গিয়ে আমরা আসল মানুষকে সব সময় হারিয়ে ফেলি স্টেজে বসে রীতিমতো সাগর সেন প্রোগ্রামটা পুরোটা দেখেন সেটা গান গাওয়ার সময় লক্ষ্য করেছিল তিস্তাসাগর সেন শ্রোতা আসনে বসে আছেন

গানের পর্ব শেষ হওয়ার পরে রীতিমতো বিজয়ীর  নাম ঘোষণা করা হয় তিস্তার বুকের ভেতরটা আনন্দে ভরে ওঠে তার এতদিনকার স্বপ্ন এত বড় একটা গানের অনুষ্ঠানে উইনার হয়েছে সে তার জীবনের এত বড় স্বপ্ন সে পূর্ণ করতে পেরেছে একটা এমন মানুষের জন্যযে মানুষটার জন্য সে কোনোদিনই কিছু করতে পারেনি। সে মানুষটাকে সে কোনদিনও সেভাবে চেনেই না তবু সেই মানুষটা তার স্বপ্ন গুলোকে মনে রেখে, সে স্বপ্ন গুলোকে পূরণ করতে সাহায্য করেছে প্রাইজটা নেওয়ার সময় তিস্তার খুব মনে হলো একবার সাগর সেন কে ডেকে নিতে কিন্তু কি পরিচয় ডাকবে সে? কি বলবে কে হয় উনি? বিচারকরা সন্মান তার হাতে তুলে দেন তাকে সম্মানিত করেন, কিন্তু তার দুটো চোখ সাগর সেনের দিকেই বারবার চাইছিল ভীষন ডাকতে ইচ্ছে করছিল তাকে কিন্তু পেরে উঠলো না কিছুতেই

কিছু একটা বাধা দিচ্ছিল কোথাও স্টেজ থেকে নেমে গেট থেকে বেরোনোর সময় সাগর সেন তিস্তা কে congratulations জানায় বলে এর পরে কিন্তু ক্যারিয়ার টাকে আরো বাড়াতে হবে একটা জায়গায় পৌঁছাতে হবে তিস্তা নিজের ইমোশনটাকে আর বোধহয় চেপে রাখতে পারলো না সজল নয়নে বলে ফেলল__কেন করলেন আপনি এসব আমার জন্য ?আমি আপনার কে ?অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছিলন বোধায় ডাক্তারবাবু উনি কি বুঝতে পেরে গেলন সব ব্যাপারটা ? আর নিজেকে সামলাতে পারল না তিস্তা আবার প্রশ্ন করল ___বলুন আপনি, কি করে জানলেন আমি ভালো গান গাই? আপনি কেনই বা আমার জন্য এতটা সুযোগ করে দিলেন আপনি কতদিন চেনেন আমাকে? হাজার একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিল সাগর সেনের দিকে চেয়ে রইল তার দিকেই...

  কিছু বলার ছিল না তার কিভাবে বা বলবে?শুধু বললো অনেক রাত হয়ে গেছে  ট্যাক্সি বুক করে দিয়েছি বাড়ি চলে যান বলে গাড়িতে উঠে বেরিয়ে গেলেন তার ব্যক্তিত্ব  তিস্তাকে ক্রমশই মুগ্ধ করেছিল চরিত্রে কি ভীষন দৃঢ়তা তিস্তা বাড়ি ফিরল। কিন্তু যে আনন্দ তিস্তার মধ্যে হওয়ার কথা ছিল, তার স্বপ্ন পূরণের ,কিন্তু সে আনন্দ তার হচ্ছে না সে আনন্দটা উপভোগ করতে পারছে না তার শুধু মনে হচ্ছে সে কিছু বোধহয় হারিয়ে ফেলেছে তার জীবনের সবথেকে দামি কিছু সে হারিয়ে ফেলছে কিন্তু সে কিছুতেই বুঝতে পারছিল না তার কি করা উচিত সে যাকিছু করতে চায় সমাজ কি তার মেনে নেবেকি নামে হবে সম্পর্কেরকোন নাম নেই । আর যে সম্পর্কের নাম নেই সমাজ সে সম্পর্ক কখনো মানে না খুব  কান্না পেল তার

মনে মনে ঠিক করল যাই হয়ে যাক কাল একবার সাগর সেনের কাছে যাবেযে মানুষটা সারা জীবন তার জন্য নিজের জীবনটাকে শেষ করে দিয়েছে, এটা ঠিক নয় এটা ঠিক হতে পারে না কখনো রাতে বাড়ি ফিরল সে,ফিরে প্রচন্ড অশান্তির সম্মুখীন হতে হলো তাকে  রজত কোনদিন মেনে নিতে পারেনি  তিস্তা জীবনে সফলতা পাক

প্রচন্ড অপমান করল তাকে বলল বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে সে মনে মনে ঠিক করেছিল সেখানে আর থাকবেনা সে বেরিয়ে আসবে সেখান থেকে এটা ভেবে কখনো সেই সিদ্ধান্ত নেয়নি যে, তার পরবর্তী জীবন কি হতে চলেছে ,সে কি সিদ্ধান্ত নেবে সে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না

শুধু একটুখানি মনে ছিল যে যে সেখানে অপমানিত হয়ে আর থাকবে না সবটাই যখন মিথ্যে হয়ে গেল তার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে, সে তার সাথে আর থাকবে না

পরের দিন সকালে মেয়েকে নিয়ে সে চলে আসে বাপের বাড়ি মায়ের কাছে মেয়েকে রেখে প্রথমেই গেল সাগর সেনের কাছেসাগর দার  বাড়িতে বেল বাজাতেই, একজন দরজা খুলে দিল বলল সাগরদা বাড়িতে আছে ?ডক্টর সাগর সেন থেকে কখন যে সাগরদা হয়ে গেছে সে নিজেও জানে না কিন্তু সেটাই তার বলতে ইচ্ছে করছিল লোকটি বলল আপনি কি তিস্তা দেবী ? তিস্তা বলল হ্যাঁ কেন বলুন তো ?আপনি কি করে চিনলেন আমাকে ? বলল দাদাবাবু তো আজ সকালের ফ্লাইটে লন্ডন চলে গেছে তিস্তা যেন  পায়ের থেকে মাটিটা সরে গেল মনে হল যে, তার সবকিছু বদলে শেষ হয়ে গেল সে মনে করেছিল, ভুল গুলো শুধরে, নিজে কোন কিছু শুরু করবে নতুন করে কিন্তু তার ভরসার হাত, তার সফল হওয়ার যে প্রেরনা, সে তার কাছ থেকে এভাবে দূরে চলে গেলে__ কিছু না বলে লোকটি বললদাদাবাবু যাওয়ার আগে একটা চিঠি দিয়েছে আপনাকে দেওয়ার জন্য, একটু দাঁড়ান আমি নিয়ে আসছি চিঠিটা হাতে নিয়ে  তখন আর পড়েনি দুচোখের জল যেন বাঁধ মানছে না সে দৌড়ে বাড়ি চলে এল ঘরের দরজাটা বন্ধ করে, চিঠিটা খুলল চিঠিতে লেখা আছে__" আমি সবটাই বুঝতে পেরেছি তুমি সবটা জেনে গেছে তোমার  আচরণ বলে দিচ্ছিল ,তোমার কিছুই অজানা নয় যে কথাটা তোমাকে কোনদিনও বলা হয়নি, বলবো ভেবেছিলাম সেই সতেরো বছর আগে ,সেই সময় যখন বলতে পারিনি, আজও চাই না সেটা বলে তোমাকে ব্যতিব্যস্ত করতে চেয়েছিলাম নিজের স্বপ্নটা পূরণ করো, নিজের পায়ে দাঁড়াও সেটা আমি করে দিয়েছি কখনো চাইনি তোমার সংসারটা ভেঙ্গে যাক আমি শুধু চেয়েছি তুমি ভালো থাকো

 যখন বুঝতে পারলাম যে তুমি আমার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছো, আমি বুঝলাম আমার এখানে থাকাটা ঠিক নয় তাই না আমি চলে গেলাম আমাদের মধ্যে দুরত্বটাই শ্রেয়এটা ভেবো না যে আমি তোমার থেকে পালিয়ে যাচ্ছি আমি তোমাকে সেই কৈশোর বয়স থেকে ভালবাসতাম আর একইভাবে ভালোবাসব জীবনে অনেক জনের সঙ্গে দেখা হয়েছে ,কিন্তু তোমার মত ভালবাসতে কাউকে পারিনি তোমাকে  সেদিন যেভাবে ভালবেসেছিলাম, আজও ঠিক একইভাবে ভালোবাসি তাই চাই আমাদের এই ভালবাসাটা যেন কোনভাবে বদনামে পরিণত না হয় এটাতে যেন কেউ কোন দাগ কাটতে না পারে ,এটা এতটাই পবিত্র এবং এতটাই পরিপূর্ণ আমি চাই এটার পবিত্রতা অটুট থাক আমি দূরে সরে যেতে বাধ্য হলাম যদি কোনো অসুবিধায় পরো, কোন সমস্যা হয়ে থাকে, আমাকে জানিও আমি সবসময় চেষ্টা করব তোমার পাশে থাকার "ইতি তোমার সাগর দাহাউ হাউ করে চিঠিটা বুকে চেপে ধরে কেঁদে উঠলো  তিস্তা

সাগর দা জানত সে খুব সুখী আছে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে  কতটা অসহ্যকর যন্ত্রনা নিয়ে চলেছে , তার খোঁজ সাগরদা রাখল নাএকজন পাশে থাকতো , কোন সম্পর্কে নাম কি দেওয়া খুব প্রয়োজন? দীর্ঘ পনেরো বছরে তো আসলে কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি একটা পুতুল খেলার ঘর ছিল প্রাণহীন ভালোবাসা হীন একটা পুতুল খেলার সংসার। এতদিন তিস্তা খেলেছিল  না কেউ তাকে মন প্রাণ উজাড় করে এভাবে ভালোবাসেছেআর যখন সেটা সে জানল, তার সাথে একবার মন খুলে কথাটা পর্যন্ত সে বলতে পারলোনা এটা ছিল তার সবচেয়ে বড় আফসোস

সেদিন তিস্তা খুব কেঁদেছিল, ভীষণ কেঁদে ছিলো তারপর থেকে কোনদিনও আর সাগর দাকে একদিনের জন্য ফোনও করেনি হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট করেনি ব্লক করে দিয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপ ,কল সবকিছু অভিমান হয়েছিল ,নিজের কথাটাই যেদিন বলার ছিল, সেদিন নিজের কথাটা বললে না আর যেদিন তিস্তার কিছু বলার ছিল ,সেদিন নিজের কথাটা বলে এভাবে চলে গেলে ____যে তার কথাটা একবারও শুনলে গেলে না কি বলতে চায় সে

একবারও জানার প্রয়োজন মনে করলে না এভাবে কেটে যায় অনেক গুলো বছর স্বামীর সাথে তিস্তার ডিভোর্সটা কিছুদিনের মধ্যেই হয়ে যায় শুনেছিল রজত পুনরায় বিয়ে করে সংসার শুরু করেছে

 মেয়েকে নিয়ে সে তার মায়ের কাছেই থাকতগান শেখাতো বিভিন্ন জায়গায় প্লেব্যাক করারও সুযোগ পেয়েছিল মেয়েও বড় হয়ে উঠল

 দশটা বছর কেটে যায় এভাবে গানের জগতে বেশ ভালোই নামডাক হয়েছে তারসাগর দার কাছে খবরটা হয়তো পৌঁছে গেছে, কিন্তু নিজে থেকে কোনদিনও তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেনি রোজ সাগর দার বাড়ির সামনে থেকে  আসতে গাড়ী করে আর দেখতো দরজাটা একইভাবে তালা বন্ধ হয়ে পড়ে আছে

একদিন বিকেলবেলা ফিরছিল গানের পোগ্ৰ্যাম করে, হঠাৎ দেখল সাগর দার বাড়ির দরজাটা খোলা কোথাও যেন একটা কিছুর বন্ধ দরজাটা খুলে গেল তিস্তা গাড়ি থামিয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিচে নেমে ছুটে গেল দরজার দিকে দরজা থেকে ছুটে ঘরের ভেতরে ঢুকলো __দেখল লাইব্রেরীর সামনে একজন পিছনে ফিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে ধবধবে সাদা পাজামা পাঞ্জাবী পড়ে এক দেবদূত যেন পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে তিস্তার বুকের ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে উঠলো ধরা ধরা গলায় বলল ,সাগরদা ____সে ব্যক্তি ফিরে তাকালো, ডক্টর সাগর সেন কত পার্থক্য ,কতটা বদলে গেছে বয়সের ছাপ পড়েছে মুখে তিস্তা সামনে গেল ,ধরা ধরা গলায় জিজ্ঞাসা করলো __কেমন আছো ?সাগর সেন উত্তর দিল___ ভালো ,তুমি কেমন আছো?এই বছরে আপনি কি করে যে তুমি হয়ে গেছে, সেটা নিজেরাই জানেনা কোনদিনও তো তুমি বলে কেউ নিজেদের সম্বোধন করেনি কাউকে আপনি আপনি করে সম্বোধন করছে এত বছরের দূরত্ব কি তবে ভালোবাসাকে বাড়িয়ে দিয়েছে কি কোথাও তিস্তা উত্তর দিল তুমি যেমন রেখে গিয়েছিলে, ঠিক তেমনটাই আছি চলে যাওয়ার আগে একবারও জিজ্ঞাসা করনি কেমন আছি ?তাহলে আজ কেন জিজ্ঞাসা করছো ?সাগর দা উত্তর দিল, যাওয়ার আগে যদি জানতাম তুমি ভালো নেই ,তাহলে  আমি যেতাম না তোমায় ভালো রাখার জন্যই আমিতো চলে গেছিলাম। আমি যেদিন জানতে পেরেছি তুমি ভালো নেই আমি সেই মুহূর্তে ফিরে এসেছি

সেদিন আমি তোমাকে দুর্বল করতে চাইনি তোমার সংসারটা ভেঙে যাক ,আমি চাইনি তাই দূরত্বকে বেছে নিয়েছিলাম কিন্তু ___যেদিন জানলাম তুমি ভালো নেই, ঠিক সেইদিনই ,সেই মুহূর্তে আমি ঠিক করি আমি ফিরে আসবো তিস্তা অঝোর কান্নায় ভেঙে পড়ল

দশ বছরের কান্না যেন তার বুকের মধ্যে আটকে ছিল লুুটিয়েপড়ে সাগর দার পা দুটো ধরে জড়িয়ে সে কেঁদে বলল__ তুমি আমার স্বপ্ন পূরণ করে দিলে সাগরদা... কিন্তু আমায় ভালোবাসলে না যদি ভালবাসতে সেভাবেই তাহলে আমার কথাটা শোনার জন্য অন্তত একবার অপেক্ষা করতে না সেদিন কৈশরকালে আমাকে বলে উঠতে পেরেছো__ আর এই মাঝ বয়সে এসে আমার কথাটা শোনার জন্য তুমি একবারও অপেক্ষা করলে না সেদিনও নিজের মত করে ভেবে নিয়েছিল আজও নিজের মতো করে ভেবেই দূরে চলে গেলে

আজকে আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ,আমার ক্যারিয়ার হয়েছে, সব হয়েছে কিন্তু .....কিন্তু আমি ভিতরে ভিতরে অসম্পূর্ণ ভালবাসার যে স্বপ্ন  দেখেছিলাম, যে ভালোবাসা পেতে আমি চেয়েছিলাম ,সে ভালোবাসা আমার এত কাছে ছিল ,তবু সে ভালবাসার স্বাদ আমি পেলাম না আর একটা মানুষ ,আমার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে নিজের স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিয়ে চলেছে ক্রমশ তাকে দু হাত দিয়ে ধরে , তুলে বলল কেঁদোনা__ আমি সারা জীবন তোমার পাশে থাকবো এই বয়সে এসে এই সম্পর্কের আর কি নামই বা দেবো? না কিছু সম্পর্ক নামহীন হয়ে  থাক। সম্পর্কের মধ্যে নাম থাকাটা জরুরী নয় টান থাকাটাই জরুরি অনেক সম্পর্ক আছে সেটার হয়তো নাম আছে ,কিন্তু প্রাণহীন____ প্রাণহীন জড়বস্তুর মত দুটো মানুষ একসাথে পাশাপাশি থেকে সারাটা জীবন___ কাটিয়ে দেয়.... কিন্তু ভালোবাসতে পারেনা তার থেকে ভালোবাসাময় দুটো মানুষ নামহীন সম্পর্কে বেঁচে থাক সারা জীবন এটাই বা কম কিসের এই বয়সে এসে আর না হয় নামটা নাইবা দিলাম সম্পর্কের। তিস্তা বলে আমার সম্পর্কের নাম চাইনা সাগর দা তোমার ভরসা দুটো হাত তুমি আমার মাথার উপর রেখো বট বৃক্ষের ছায়ার মতো _ব্যাস আমি আর কিছু চাই না কিচ্ছু না

 এক দৃষ্টিতে তার দিকে চেয়ে সাগর দা বলে__ কোনদিন তোমার কাছে কিছু চাইনি ,একটা জিনিস চাইবো দেবে? তিস্তা বলে, বলোনা তোমার কি চাই ?ডক্টর সাগর সেন বলে, কলেজ ফেষ্টে  যে গানটা প্রথম শুনেছিলাম, গানটা শুনে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম ,আজ সেই গানটা বড্ড শুনতে ইচ্ছে করছে সামনে যে গঙ্গা টা আছে তার পাড়ে বসে আমাকে গানটা শোনাবেসূর্যাস্ত দেখতে দেখতে সেই গানটা আমি শুনতে চাই । তিস্তা সম্মতি দেয় কিছু দুরে সামনে গঙ্গা নদী বয়ে চলেছে । তার পাড়ে গিয়ে দুজনে বসে, সন্ধ্যাবেলা ___তিস্তা গানটা ধরে ,"আমার রাত পোহালো ,শারদ প্রাতে"। গানটার প্রকৃত অর্থ  সেদিন উপলব্ধি করতে পেরেছিল  তিস্তা

গানটা গাইতে গাইতে সাগর দার কাঁধের উপর মাথা কাঁত করে কিছুক্ষণ চুপচাপ হয়ে যায় অনেক কটা বছর এই কাঁধটার জন্য অপেক্ষা করেছে সেকোথাও এই ভরসার কাঁধ টার বড্ড অভাব ছিল তার আজ আর সেটা নেই














মেঘদূত সাহিত্য পত্রিকা একটি প্রয়াস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ