
পারফরমেন্স
প্রবীর দে
এমনিতেই আজ দেরী হয়ে গেছে..
তার ওপর এখন যদি আবার তেনার সাথে দেখা হয়ে
যায় স্ট্যান্ডে ... তাহলেই হল ।
গলির মুখেই স্ট্যান্ড , অটোর লাইনে দাঁড়িয়ে আছি , ব্যাগ দিয়ে যতটা সম্ভব নিজেকে আড়াল করা যায়
,করছিলাম ... আসলে কি, উলটো দিকের দোকানে বসা মহীতোষকাকুর সাথে যদি একবার চোখাচুখি হয় ,তাহলে
হয়ে গেল
! সময়মত আজ আর অপিসে যাওয়া হবে না।
কিন্তু না , উনি দেখে ফেলেছে ঠিক ।সেই
পরিচিত বাজখাই গলায় শব্দগুলো ধেয়ে এল ,”তোর সাথে একটু পরামর্শ করার দরকার,আসিস একদিন
সময় করে “।
“আচ্ছা ঠিক আছে” বলা ছাড়া
আমার কোন অপশন ছিল না। শত হলেও উনি আমার বাল্যবন্ধু পিনু ‘র বাবা,।আর
এমনিতে উনি আমাকে স্নেহ করেনও খুব। আগে ভাবতেন রিটায়ারের
পরে রিলাক্স লাইফ কাটাবেন, কিন্তু সে গুঁড়ে বালি দিয়ে দিয়েছে আমার বন্ধু পিনু। জীবনের
জন্য জীবিকারও যে প্রয়োজন ,সে তো এত বছরেও বুঝতে পারে নি পিনাক । তাই শুধু পিনুর ভবিষ্যতের
কথা ভেবে বাড়ির সামনেই বিড়ির কারখানা দিয়েছেন মহীতোষকাকু । সেলস ডিপার্টমেন্ট টা ছেলের
দায়িত্বে। অনেকগুলি হাটেই সে বিড়ি নিয়ে যায় বিক্রির জন্য,
তবে হ্যাঁ ,সন্ধ্যে বেলা কাকুকে রিপোর্ট
দিতেই হবে । কেউ যদি আমায় জিজ্ঞসা করে
যে পিনু কেন এই ডিপার্টমেন্টএ এলো ? আমি বলব , প্রোডাক্ট কন্সাম্পসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার জন্যই সে সেলসের এই দায়িত্ব পেয়েছে।
পিনাক আমার সাথে ক্লাস এইট
পর্যন্ত পরেছিল। তারপর আর পড়াশুনা করে নি। স্কুলের টয়লেটে একদিন বিড়ি খেতে গিয়ে ধরা
পরে গিয়েছিল । হেড স্যার এমন মেরেছিলেন যে সেই থেকে আজও পর্যন্ত আর স্কুলের চৌকাঠে
পা রাখে নি ।
যাক , সন্ধ্যাবেলা অপিস থেকে ফেরার সময় ওদের দোকানে গিয়ে বসলাম। সকাল থেকে বিভিন্ন হাটে, পিনাক কি কি কাজ করেছে তার রিপোর্ট নিচ্ছিলেন কাকু
...
দোকানের ভিতরে চেয়ারে কাকু
বসা...আর আড়াআড়ি রাখা শোকেসের পিছনে দাঁড়িয়ে বিড়িতে দম দিতে দিতে
দেখি
পিনাক বলছে ...
“বাবা , ২৫ বান্ডিল বিড়ি নিয়ে গিয়েছিলেম … প্রথমে নগরুখরা হাটে স্যাম্পল
দিলাম ৪ বান্ডিল ,১ বান্ডিল বিক্রি হল ।এরপর ঝিঁকরা হাটে ৬ বান্ডিল স্যাম্পল দেবার পর কি ৩ বান্ডিল বিক্রি করতে পারলাম ঠিকই কিন্তু ধারে...। তারপর
আবার
হাবরা হাটে এসে ২ বান্ডিল বিড়ি বিক্রি হল,হ্যাঁ সেটা নগদে এবং এখানেও ৪ বান্ডিল সাম্পেল দিলাম ; তাহলে ব্যাল্যান্স ৫ প্যাকেটের মধ্যে এই নাও
৩
প্যাকেট
রিটার্ন দিচ্চি,।এরপর মুখটা উলটো দিকে ঘুরিয়ে খুব আস্তে করে বললে ২ প্যাকেট “ ওউন কন্সাম্পসন “ আছে।
কাকু বেশ হতাশা আর রাগ মেশান
গলায় চেঁচিয়ে উঠলেন , তাহলে সারাদিনে তোমার ফাংশনাল পারফর্মেন্স হল মাত্র ৩ প্যাকেট !! কিভাবে এই ব্যাবসা
চালাবে তুমি বল তো ?
পিনাক বাক্সর পেটি আড়ালে বসে ওর বিড়ির শেষ টানটা দিতে দিতে একা একাই বলে চলেছে দেখছি ... “ আরে এডভারটাইসমেন্ট
তো হল, বিক্রয় নয় নাই বা হল...”।
বহু চেস্টা করেও হাসি চাপতে না পেরে উঠে
পড়লাম ।।
1 মন্তব্যসমূহ
দারুণ
উত্তরমুছুন